kalerkantho


মেয়েকে বাড়ি নেওয়া হলো না বাবার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:১৪



মেয়েকে বাড়ি নেওয়া হলো না বাবার

মেয়েকে বাড়ি নেওয়া হলো না হতভাগ্য বাবা বাবলু রবি দাসের। জামাই বাড়ি এসেছিলেন মিষ্টি হাতে মেয়ে ও নাতনীকে নেওয়ার জন্য।

এসে দেখেন মেয়ে সাথী রবি দাসের (২২) নিস্তেজ দেহ পড়ে আছে বাড়ির উঠোনে।

মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে মেয়ের লাশ দেখতে এসে জামাই ও তার স্বজনদের মারপিটের শিকার হন নিহত সাথী রবি দাসের মা আরতি রবি দাস। মারপিটে আহত হয়ে এখন তিনি গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ শহরের মার্কাস মহল্লায়। এসব ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুজন রবি দাস পলাতক।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শহরের মার্কাস মসজিদ এলাকায় গলায় ফাঁস দেন সাথী। পরিবারের লোকজন তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তা মর্গে পাঠায়।

এদিকে, নিহতের পিতার দাবি, তার মেয়ে সাথী দাসকে মারপিট করা হয়।

এতে তিনি ঘরের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে মারা যান। পরে তাকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর  চেষ্টা করা হয়।

নিহতের বাবা বাবলু রবি দাস সাংবাদিকদের জানান, পাঁচ বছর আগে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা আর যাবতীয় আসবাবপত্র দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের রাধু রবি দাসের ছেলে ব্যবসায়ী সুজন রবি দাসের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন তিনি। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বছরখানেক আগে জামাইকে ব্যবসা করার জন্য আরও এক লাখ টাকা দেন। সম্প্রতি সংসারের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের ঝগড়া হয়।

বাবলু রবি দাস বলেন, "গতকাল সোমবার বিকেলে আমি চাঁদপুর থেকে গোপালগঞ্জে মেয়েকে নেওয়ার জন্য আসি। জামাইবাড়ি আসার আগে দুই কেজি মিষ্টি কিনেছিলাম। কিন্তু, তার আগেই ওরা আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। " তিনি বলেন, "আজ  মঙ্গলবার সকালে আমার স্ত্রী আরতি রবি দাসকে পিটিয়ে আহত করে জামাইয়ের ভাই তপন রবি দাস, রিপন রবি দাস, তাদের স্ত্রী ও তার মা। " তিনি তার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সুজন রবি দাসের বড় ভাই তপন রবি দাস নিহতের মা আরতি রবি দাসকে মারপিটের ঘটনাটি অস্বীকার করেন। তিনি  বলেন, "আমরা কোনও মারামারি বা গালাগালির ঘটনা ঘটাইনি। কী কারণে সাথী মারা গেছে তাও বলতে পারবো না। এটা আমার ভাই-ই ভালো বলতে পারবে। " 

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা বলেন, "এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। " 


মন্তব্য