kalerkantho


১০ লাখ টাকার কাঁকড়া ১ লাখ ৮০ হাজারে নিলাম!

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি    

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:১০



১০ লাখ টাকার কাঁকড়া ১ লাখ ৮০ হাজারে নিলাম!

সুন্দরবন পূর্ব চাঁদপাই রেঞ্জের গহীন বন থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের দুই হাজার ৩০ কেজি কাঁকড়া জব্দ করার পর তা মাত্র এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করেছে বনবিভাগ।

নিলামের শর্ত মোতাবেক প্রচারণা না করায় স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট নামমাত্র মূল্যে এসব কাঁকড়া কিনে বন বিভাগের মোটা অংকের রাজস্বের ক্ষতি করেছে।

তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডি এফ ও ) মো. মাহামুদুল হাসান।

সুন্দরবন থেকে মাছ পরিবহনের পাস (অনুমতি) নিয়ে দুটি ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহন করা হচ্ছিল। অবৈধভাবে কাঁকড়া পরিবহনের অপরাধে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালিয়ে গতকাল  মঙ্গলবার কাঁকড়াবোঝাই ট্রলার দুটি আটক করে। এতে দুই হাজার ৩০ কেজি কাঁকড়া আছে অনুমান করে তা নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় বনবিভাগ। নিলামের শর্তানুসারে এসব কাঁকড়া নিলামে বিক্রির পূর্বে ব্যাপক প্রচারণা এবং মাইকিং করার বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বৈদ্যমারী ও জয়মনি বাজারের কতিপয় লোক সিন্ডিকেট করে গড়ে ৪-৫ শ টাকা কেজি মূল্যের কাঁকড়া ভ্যাটসহ মাত্র ৯০ টাকা ২৫ পয়সা কেজি দরে কিনে বনবিভাগের অন্তত ৭-৮ লাখ টাকা রাজস্বের ক্ষতি করেছে। অভিযোগ রয়েছে বন বিভাগের সঙ্গে  গোপন আঁতাতে এসব কাকড়া কিনেছেন বৈদ্যমারী এলাকার খালেক খান, ইব্রাহিম খান, শুকুর সরদার, ইউসুফ শেখ, মামুন হাওলাদার, মেহেদী জমাদ্দার ও মালেক ফরাজীসহ ১০-১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট চক্র। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আ. মালেক ফরাজির নামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে এ কাঁকড়ার নিলাম বিট হয়।

১০ লাখ টাকা সমমূল্যের কাঁকড়া মাত্র এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় নিলাম প্রক্রিয়ায় ভাগিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট চক্র।

সূত্র জানায়, আটক দুটি ট্রলারের মধ্যে একটি ট্রলারের সাদা মাছ পরিবহনের পাস মোংলা উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের রেজাউল করিম এবং অপর ট্রলারটির দাকোপ উপজেলার পাসাখালী গ্রামের শেখ মো. আবজালের নামের এক ব্যক্তির।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "ওই নিলাম প্রক্রিয়ায় চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদীজ্জামানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন সবকিছু স্বচ্ছতার সাথেই হয়েছে। " নিলাম প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।


মন্তব্য