kalerkantho


ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে ঢাবির সাত শিক্ষার্থী রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক   

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:৩১



ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে ঢাবির সাত শিক্ষার্থী রিমান্ডে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উত্তরপত্র সরবরাহ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাত শিক্ষার্থীকে হেফাজতে (রিমান্ডে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  

গ্রেপ্তার তানভীর আহম্মেদ মল্লিক ও ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির অর্থনীতি বিভাগে, মো. বায়জিদ মনোবিজ্ঞানে, নাহিদ ইফতেখার ও রিফাত হোসাইন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে, প্রসেনজিত দাস সংস্কৃত বিভাগে এবং আজিজুল হাকিম ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যয়নরত।

এরা সবাই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

রাজধানীর শাহবাগ থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বুদবার উল্লিখিতদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (সিআইডি) জেষ্ঠ্য সহকারি সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম।  

মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের হেফাজতে নিয়ে সাতদিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চান। হেফাজতে নেওয়ার পক্ষে আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।  

বিভিন্ন বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি আসামিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের কাছে টাকার বিনিময়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করাসহ উত্তরপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে সরবরাহ করে। ফলে তুলনা মূলক কম মেধাবীরা টাকার বিনিময়ে ভর্তি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে আর প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ দেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

আসামিরা অত্যন্ত চাতুর।

এদের গ্রেপ্তারের পর অল্প সময়ে কোন তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রার্থিত মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য জানা সম্ভব হবে। পাশাপাশি অপকর্মের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে প্রশ্নপত্র জালিয়াতির ক্ষেত্রে তাদের কর্মপদ্ধতি ও ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে সম্যক তথ্য উদঘাটন করা যাবে।  

অন্যদিকে, আসামিদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন চাওয়া হয়। আদালতে শুনানিতে তাদের আইনজীবীরা বলেন, এরা এজাহারভুক্ত আসামি না। মামলায় আনা অভিযাগের স্বপক্ষে কোনো আলামতও তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়নি। সবাই ছাত্র। এরা কেউ প্রশ্ন তৈরি করেনি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। গ্রেপ্তার করার ৪৮ ঘণ্টা পর আদালতে আনা হয়েছে। এ সময়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে দেওয়ার মতো আইনগত কারণ নাই। তদন্তের স্বার্থে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।  

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মাহমুদুল হাসান আসামিদের প্রত্যেককে হেফাজতে নিয়ে একদিন করে জিজ্ঞসাবাদের অনুমতি দেন।  

প্রসঙ্গত, গত ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মহিউদ্দিন রানাসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ আসামিদের সম্পর্কে তথ্য দেয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে।

 


মন্তব্য