kalerkantho


জামালপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, ৬ মাস পর মামলা

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০৪



জামালপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, ৬ মাস পর মামলা

ছবি: কালের কণ্ঠ

জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর এলাকায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রী যৌন নির্যাতনে গর্ভবতী হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার রাতে প্রভাবশালী ধর্ষক শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/১ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষিতার দরিদ্র পিতা।

জামালপুর সদর থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসের ১৫ তারিখে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী একই এলাকার শাহজাহান আলী (৪৫) এর কাছে পাশবিক কায়দায় ধর্ষণের শিকার হয়।

শাহজাহান আলী একই গ্রামের বাসিন্দা গনি মিয়ার পুত্র।
 
মামলার আবেদনে নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা (হাবিল মিয়া) বলেন, ওইদিন স্কুল ছুটির পর বিকাল ৪টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে দিয়ে আমার মেয়ে বাড়ি ফিরছিল। ওই সময় শাহজাহান আলী প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে তার চৌচালা ঘরে নিয়ে যায়। আমার নাবালিকা মেয়ে কিছু না বুঝার আগেই জোরপূর্বক ওই আসামির হাতে ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর আসামি মেয়েকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে এই কথা ফাঁস করা যাবে না। একপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা যায় সে অন্তঃসত্ত্বা। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ করায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হলো।

মেয়েটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এর বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আসামির প্রভাব এবং হুমকির কারণে বিচার পায়নি।

আমার মেয়েটি এবার পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় লোকলজ্জা এবং শারীরিক যন্ত্রণার কারণে অংশ নিতে পারে নাই। পড়ালেখায় আমার মেয়ে খুব ভালো ছিল। শয়তান শাহজাহান আমার মেয়ের সর্বনাশ করে দিয়েছে।

জামালপুর উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, উন্নয়ন সংঘ ও ব্র্যাক কর্মীরা প্রভাবশালী ধর্ষকের হুমকি উপেক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীটিকে বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর থানায় নেওয়া হয়। পরে ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম আরো বলেন, ধর্ষণের শিকার এই অবুঝ শিশুটির মনো-সামাজিক উন্নয়নে আমরা কাজ করবো এবং উন্নয়ন সংঘের আইআইআরসিসিএল প্রকল্পের আওতায় যাবতীয় আইনগত সহায়তা দেয়া হবে। পাশাপাশি ব্র্যাকের মাধ্যমে নিরাপদ সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা করা হবে। অনাগত শিশুটির দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন মেয়েটির বর্তমান বয়স ৪দিন কম ১২ বছর। ১৬ বছর হলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিয়ে দেয়া যেতো। আমরা চাই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি।

জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন পিপিএম বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। অবুঝ এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে।


মন্তব্য