kalerkantho


কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী ইজতেমা শুরু, মুসল্লিদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক,কক্সবাজার   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:১২



কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী ইজতেমা শুরু, মুসল্লিদের ঢল

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী মিনি ইজতেমা আজ বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ী বিয়াম স্কুল সংলগ্ন মাঠে শুরু হয়েছে তাবলীগ জামায়াতের ইজতেমা। তিন দিনব্যাপী ইজতেমার প্রথম দিনেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে মাঠ।

লাখো মুসল্লর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে আল্লাহু আকবর। আগামীকাল শুক্রবার আরো বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

শনিবার দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কক্সবাজারের তিন দিনব্যাপী এই মিনি ইজতেমা। তিন দিনব্যাপী ইজতেমা আজ বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার বাদ আছর থেকে শুরু হয় বয়ান। তাবলীগ জামাতের মুফতি মাওলানা আতাউর রহমান ফজরের নামাজের পর বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন ইজতেমার কার্যক্রম। জহুরের নামাজের পর শুরু হয় ইজতেমার মূল পর্ব। নামাজ শেষেই বয়ান শুরু করেন তাবলীগ জামায়াতের কেন্দ্রীয় মারকাজ কাকরাইল এর মাওলানা মো. আবদুর রহিম। এরপর আছরের নামাজের পর বয়ান করেন ঢাকা ধানমণ্ডির মাওলানা ওসমান গণি। মাগরিবের নামাজের পর বয়ান করেন মাওলানা মোশাররফ হোসেন।

এদিকে আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে সমবেত হবেন লাখো মুসল্লি। আল্লাহ আকবর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে ইজতেমা ময়দান। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুসল্লিরা কাঁধে-পিঠে প্রয়োজনীয় মালামালের গাইট ও ব্যাগ নিয়ে মাঠের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিচ্ছেন। আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। বুধবার থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা এসে ময়দানের খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। সৈকত নন্দনী কক্সবাজারের এই বালিয়াড়ীতে ইজতেমাস্থল এখন মুসল্লিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে। ইজতেমায় প্রথম দিনে জেলার ৮ উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন।

আয়োজকরা জানান, 'ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো তাবলিগে যাওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। ' এবারের ইজতেমার পর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ তাবলিগের চিল্লায় যাবেন বলেও তারা আশা করছেন। এদিকে ইজতেমার মাঠে সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইজতেমা মাঠের প্রবেশ দ্বারে ৩ সত্মর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইজতেমার নিরাপত্তায় প্রায় ৩ শ পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া আনসার ও  তাবলীগ জামাতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন প্রায় ৫০০ জন।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ হয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা। পুরো ময়দানকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। সে সঙ্গে চেকপোস্ট রয়েছে। ইজতেমা উপলক্ষে ৬০০ টয়লেট, ১০০০ প্রস্রাব করার জায়গা, ২৫টি মোটর, ১০০টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। চিকিত্সা : ইজতেমা ময়দানে ৫টি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আগত লোকজন খুব দ্রুততম সময়ে এই ক্যাম্প থেকে বিনা পয়সায় চিকিত্সা সেবা নিতে পারবে।

এ ছাড়াও পানির সমস্যা সমাধানে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে অগভীর নলকূপ। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশ, গোয়েন্দা ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।


মন্তব্য