kalerkantho


ভোলায় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:১২



ভোলায় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোলায় যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছে বিল্লাল নামে এক সেনা সদস্য। নির্যাতিত ওই গৃহবধূর নাম আখিঁ। গুরুতর আহত গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে র্ভতি করা হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে ভোলা সদর মডেল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সেনা সদস্য মোঃ বিল্লাল হোসেন তার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

নির্যাতিত গৃহবধূর পারিবারি সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরছিফলি গ্রামের ওমর আলি হাওলাদার বাড়ির শাহাজাহান হওলাদারের ছোট মেয়ে আখি তারা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নবীপুর সাইক্লোন সেল্টার এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য বিল্লাল হোসেনের। 

বিয়ের পর সংসার জীবন ভালো চললেও দিন যত গড়াতে থাকে ততই যেন সংসার জীবনে অশান্তি বাড়তে থাকে। বিয়ের পর থেকেই বিল্লালের বাবা-মা ও বিল্লাল আখির বাবার কাছে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবী করত। মেয়ের সুখের জন্য আখির বাবা বিল্লালকে বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ নগদ অর্থ যৌতুক হিসাবে প্রদাণ করে। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হয়নি বিল্লালের পরিবার। চাকরি সুত্রে বিল্লাল দেশের বিভিন্ন যায়গায় থাকার কারনে বিল্লালের স্ত্রী আখি বিল্লালের বাবা-মার কাছে থাকত। বিল্লালের বাবা-মা বিভিন্ন সময়ে যৌতুক চেয়ে আখির ওপর র্নিযাতন চালাত। বিল্লাল ছুটিতে বাড়িতে আসলে সে বাবা-মার সাথে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে র্নিযাতন চালাত। 

গত শুক্রবার স্বামী-সস্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পযার্য়ে বিল্লাল তার সস্ত্রী আখিঁর মাথায় আঘাত করে ও তার হাত ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়। পরে আিঁখ অজ্ঞান হয়ে পরলে তাকে রাতেই ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকেও আঁখ তারার জ্ঞান না ফেরায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেয় পাষণ্ড স্বামী বিল্লাল ও তার সহোযোগিরা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আখি তারাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র্ভতি করা হয়। 
 
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি হোসনে আরা চিনু বলেন, একজন সৈনিক রাষ্ট্রের একটা বিশেষ অবস্থানে থাকে। এরা দেশের উপকারে অনেক কাজ করছে। কিন্তু যখন একজন সৈনিক কর্তৃক তার গৃহবধূকে নির্যাতন করার কথা শুনি তখন এটা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেন।  
 
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির কালের কন্ঠকে জানান, এ ঘটনায় সোমবার সকালে ভোলা সদর মডেল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত গৃহবধূ আখি তারার বাবা শাহাজাহান হওলাদার বাদি হয়ে সেনা সদস্য বিল্লাল হোসেনসহ চার জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। 

নির্যতনের কথা অস্বীকার করে স্বামী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি স্ত্রীকে নির্যাতন করিনি। তার হাত কেটে দেইনি। আমাকে ফাসানোর জন্য নিজের হাত নিজেই কেটেছে আখিঁ। তিনি আরো বলেন, সংসরা জীবনে টুকটাক ঘটনা ঘটেই থাকে।

                 


মন্তব্য