kalerkantho


কমলনগরে ধর্ষণ চাপা দিতে মাতবররা তৎপর, তরুণ আটক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:১৮



কমলনগরে ধর্ষণ চাপা দিতে মাতবররা তৎপর, তরুণ আটক

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েক মাতবর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। তবে টাকা নয়, ঘটনার বিচার চায় ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরী ও তার পরিবার। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন তারা।

এদিকে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মো. দিদারকে (২২) সোমবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় থেকে থেকে পুলিশ আটক করেছে। দিদার কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাক্টর ট্রলি চালক। ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরী নদী ভাঙনের শিকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৬ ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে অভিযুক্ত দিদার ও তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে স্থানীয় কয়েকজন মাতবর নিজেদের পকেট ভারি করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই টাকার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয়েছে। কিশোরীর পরিবার তাতে কর্ণপাত করেনি। এতে ভাগ-ভাটোয়ারার মিশন ভেস্তে যাওয়ায় মাতবরদের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ ও কিশোরীর ভাষ্যমতে, এক বছর আগে মোবাইল রিচার্জের দোকান থেকে কৌশলে দিদার তার (কিশোরী) মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। এরপর থেকে ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করা হয়। ভালোবাসার কথা বলে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২০ ডিসেম্বর রাতে ঘর থেকে বের হলে ওঁৎ পেতে থাকা দিদার তাকে মুখ চেপে ধরে। পরে তাকে বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে দিদারকে আটক করে। পরে ফলকন ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইব্রাহীম খলিল ও স্থানীয় মো. সিরাজ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি রফাদফা করতে সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, ফলকন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. খোকন ও ওই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইব্রাহীম খলিলসহ কয়েক মাতবর উঠেপড়ে তৎপরতা চালিয়েছেন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, ঘটনাটি মিমাংসা না হওয়ায় যার টাকা, তাকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে কার কাছে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে-তা নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি।

ওই কিশোরী বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় মাতবররা টাকার বিনিময়ে রফাদফা করার চেষ্টা করছে। আমি টাকা না, বিচার চাই। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যরা আতংকে রয়েছে।

এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টার বিষয় আমার জানা নেই। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। এটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য