kalerkantho


কুড়িগ্রামে শীতজনিত রোগে তিন শিশুর মৃত্যু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি    

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:২৫



কুড়িগ্রামে শীতজনিত রোগে তিন শিশুর মৃত্যু

কুড়িগ্রামে শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ শুক্রবার সকালে এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই দিনে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে রাজারহাটের মীমকে (দেড় বছর) তার বাবা বুলবুল বৃহস্পতিবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজারহাট উপজেলা থেকে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করেন। আক্রান্ত শিশুটি আধাঘণ্টা  পর মারা যায়। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার নয়নমনি (১দিন) আজ শুক্রবার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। একই দিন রাজারহাটের চতুর্ভূজ গ্রামের দুলালী (২১ দিন) নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। 

কুড়িগাম সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, নয়ন মনি লো বার্থ ওয়েট রোগে মারা যায়। তিনি আরো জানান, শুক্রবার সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শীতজনিত রোগে ৩৯ জন ভর্তি হয়েছে।

এদিকে, কনকনে ঠাণ্ডা আর হিমেল হাওয়ায় খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হচ্ছে না মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে শীত কষ্টে ভুগছে শিশু, বৃদ্ধসহ নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ। সন্ধ্যা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে পুরোজনপদ। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা নিম্নগামী হচ্ছে।

এ অবস্থায় শীতকাতর মানুষ খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় ৪২০টি চরের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে তীব্র শীতকষ্টে ভুগছে। এতে কাজে বের হতে পারছে না শ্রমজীবী মানুষ। দুর্ভোগ বাড়তে শুরু করেছে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর শিশু ও বৃদ্ধদের। কনকনে ঠাণ্ডায় কাজে বের হতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে দিনমজুর শ্রেণির মানুষের।

কুড়িগ্রামের কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের পর্যবেক্ষক মোফাখারুল ইসলাম জানান, শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেলা প্রশাসকের ত্রাণ কার্যালয় জানায়, এ পর্যন্ত ৯ উপজেলায় ৫৭ হাজার কম্বল দেওয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ চলছে। 


মন্তব্য