kalerkantho


সেন্ট মার্টিনসে মরা কাছিম নিয়ে কুকুরের কাড়াকাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:১৩



সেন্ট মার্টিনসে মরা কাছিম নিয়ে কুকুরের কাড়াকাড়ি

ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে চলতি শীত মৌসুমে আজ শনিবার সকালেই একটি মরা সামুদ্রিক কাছিম জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে। বড় আকারের মরা কাছিমটি ভেসে দ্বীপের জেটি ঘাটের পার্শ্বে সৈকতের চরে আটকা পড়ে। সেই মরা কাছিমটি ভক্ষণের জন্য দ্বীপের কুকুরগুলো মরিয়া হয়ে উঠে।

দেশের ক্ষুদ্র ইউনিয়ন হিসাবে পরিচিত সেন্ট মার্টিনস দ্বীপের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ আজ শনিবার রাতে জানিয়েছেন- 'ফিঃ বছর শীত মৌসুমে অসংখ্যক মরা কাছিম ভেসে আসে। তবে চলতি মৌসুমে এই প্রথম একটি কাছিম ভেসে আসার খবর পেয়েছি। পর্যটকসহ দ্বীপের প্রচুরসংখ্যক লোক কাছিমটি দেখেছেন সৈকতের বালুচরে।'

দ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান জানান, শনিবার সকালে মরা কাছিমটি ভেসে এসে দ্বীপের বালুচরে আটকা পড়ার পর শত শত কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ে এটি ভড়্গণের জন্য। কুকুরের এমন দৃশ্য না দেখলে যেন বিশ্বাস করাও কষ্টকর। তিনি জানান, দ্বীপে কুকুরের উৎপাতে স্বাভাবিক জীবনযাপনই এক প্রকার ব্যাহত হচ্ছে।

চেয়ারম্যানের মতে ৭ হাজার বাসিন্দার দ্বীপটিতে বর্তমানে ৪ হাজারের বেশি বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। এসব কুকুরের অবস্থানও দ্বীপের ভ্রমণকারীদের বিচরণ স্থান জেটিঘাট এবং সৈকত এলাকা। কুকুরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সৈকতে। ভোরে মসজিদগামী মুসল্লি এবং সৈকতগামী পর্যটকদের জন্য রিতিমতো বিপদজনক কুকুরের দল। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে তিনি (ইউপি চেয়ারম্যান) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নিকট ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি বলেও জানান।

এদিকে দ্বীপে কাছিমের ডিম সংরক্ষণে নিয়োজিত ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইক্যু সিস্টেম অ্যান্ড লাইভলি হুড-ক্রেল এর স্থানীয় কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মুজাহিদ ইবনে হাবিব রাতে জানান- ‌'কাছিমের ডিম পাড়ার মৌসুমে শনিবার প্রথম একটি মরা কাছিম ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে। অথচ গেল বছর প্রচুর মরা কাছিম ভেসে এসেছিল চরে।'

তিনি বলেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত গভীর সাগরের কাছিম ডিম পাড়ার জন্য চরে উঠে আসে। এ সময় অনেক কাছিম মারা যায় নানা কারনে। দ্বীপের কুকুরগুলো তীর্থের কাকের মত অপেক্ষায় থাকে কাছিম ভক্ষণ করার জন্য। তবে এবার কাছিমের মৃত্যুর ঘটনা তেমন বেশি নয়। যাকে সুখবর হিসাবে দেখছেন তিনি।

তিনি আরো জানান, ২০১৪ থেকে গেল বছর পর্যন্ত দ্বীপে কাছিমের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল ২ হাজার ৬৮১টি। এসব ডিমের মধ্যে ২ হাজার ৪০১টি ডিমের বাচ্চা ফুটানোর পর সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর চলতি মৌসুমের গত ২ মাসে ৩২০টি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।


মন্তব্য