kalerkantho


'কঠিন ঠাণ্ডা নাগেছে বাহে'

ভূবন রায় নিখিল, নীলফামারী    

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১১:২৬



'কঠিন ঠাণ্ডা নাগেছে বাহে'

'আজি কঠিন ঠাণ্ডা নাগেছে বাহে। ভোরবেলা থাকি আগুন ধরে বসি আছো। আজিও কোনো কামোত যাবার পরিনু না।'

৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তীব্র শীতে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নীলফামারী জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে আগুন পোহাচ্ছিলেন একদল নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। এদের মধ্যে কায়িক শ্রমিক ভবেশ চন্দ্র রায় (৬০) বলেন ওপরের কথাগুলো।

তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। সকাল ১০টার দিকেও শহরে নেই মানুষের তেমন সমাগম। ক্ষেত খামারের কাজে নামতে পারেনি খেটেখাওয়া মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষ শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছে আগুন দিয়ে।

ভবেশ রায় আরো বলেন, 'শরীর খাটেয়া সংসার চালাও মুই। ঠাণ্ডাত কাবু হয়া এলা কাম করির পারেছ না। কামাই বন্ধ হয়া সংসারোত অভাব চলেছে।'

একই গ্রামের বিরোদা বালা রায় (৬০) বলেন, 'গরিব মাইনষির খেরের (ধানের খড়) বিছনাত কেথা (কাঁথা) দিয়া আইতের (রাত) শীত কাটে না। মধ্য আইতোত বাড়ির আগিনাত (আঙ্গিনা) আগুন ধরেয়া বসি থাকি। এলাতো মেলা বেলা হইচে তাহো ঠাণ্ডা যাছে না।'

ওই ইউনিয়নের বাদিয়ার মোড়ের একটি প্লাস্টিক কারখানার শ্রমিক সেলিম হক (৪০) বলেন, 'ঠাণ্ডা আর সহ্য হচে না। হাত পাও ঠাণ্ডা হয়া কাম করির পারেছি না। একটু পর পর কাম ছাড়ি আগুন তাপিবার লাগেছে। আজি হামার মজুরি কম হোবে।' তিনি জানান, প্রতিদিন কাজ করে তিনি পান আড়াই থেকে তিন শ টাকা। শীতের কারণে যে পরিমাণ কাজ হবে তাতে এক থেকে দেড় শ টাকা আয় হতে পারে। 

কারখানাটির অপর শ্রমিক রুস্তম আলী (৫০) বলেন, 'আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। কয়েক দিনের এমন ঠাণ্ডায় আয় কমেছে আমাদের। যেটুকু আয় হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।' এ সময় একই কথা বলেন ওই কারখার শ্রমিক রাব্বী হোসেন (১৮), রবিউল ইসলামসহ (৪০) অনেকে।

প্রায় সপ্তাহব্যাপী শৈতপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জেলার মানুষ। আজ সোমবার আরো তাপমাত্রা কমে শীতের দাপট বেড়েছে আরেক ধাপ। এমন দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর দিন কাটছে এসব মানুষের।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম আখতারুজ্জামান বলেন, 'এ বছর সরকারিভাবে বিতরণের জন্য ৪১ হাজার ৯৩৭টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯৩৭টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরো ২০ হাজার কম্বল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে ৭০০ পিস করে কম্বল বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে।

 

 


মন্তব্য