kalerkantho


'জারোতে শরীলোত কাঁপনি ধরে'

আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম    

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:২২



'জারোতে শরীলোত কাঁপনি ধরে'

'কী জার বাহে। জারোতে হাও পাও ছিসটি নাগে। সব্ব শরীলোত কাঁপনি আইসে। হামরা এই জারোতে বাঁচি কেমন করি।'

কথাগুলো দিনমজুর রহিমুদ্দিনের। কাঁধে কোদাল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন মজুরি দিতে। বোরো ক্ষেত প্রস্তুত করতে। এই ঠাণ্ডার ভেতরও পেটের দায় মেটাতে ছুটতে হচ্ছে তাকে।

আজ সোমবার সকালে রহিমুদ্দিনের সঙ্গে দেখা হয় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাংটুর ঘাট সড়কে। রহিমুদ্দিন বলেন, 'কাম করতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কাম না করলে ভাত কাঁয় দিবে?'

আরো পড়ুন শীতের রেকর্ড! জেনে নিন কোথায় কত তাপমাত্রা আজ

রহিমুদ্দিনের মতো অসংখ্য দিনমজুর তীব্র ঠাণ্ডায় কুঁকড়ে গেছেন। অনেকেই ঠাণ্ডায় টিকতে না পেরে বসে আছেন বেকার।

কুড়িগ্রামে হাড় কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৩ দশমিক ২ এ। গত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছে অর্ধশত শিশু ও বয়স্ক। 

এদিকে, ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডার কারণে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মাঠের কাজ। তীব্র ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহে কাজে বের হতে পারছে না কর্মজীবী মানুষ। দুর্ভোগ বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়েছে এসব হতদরিদ্র মানুষ।

শিবরাম গ্রামের দিনমজুর আবুল হোসেন বলেন, 'দুই দিন বসি থাকি বাধ্য হয়য়া আইজ কামোত আচ্ছি।' ভ্যানচালক নূরুল ইসলাম বলেন, 'জারোতে কাজ কাম বন্ধ হয়য়া গেইছে। বেকার বসি আছি।'

সকাল সন্ধ্যাতো বটে, দিনের অন্য সময়ও শহর গ্রাম সর্বত্র আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে মানুষ। সদর উপজেলার আলুটারি গ্রামের বৃদ্ধা নাছেতন বলেন, 'এতো ঠাণ্ডা  কোনোদিন দেখি নাই। ঠাণ্ডাতে মোর হাফানির টান উটছে। খুব কষ্ট। কাইয়ো একটা কম্বল দিলে ভালো হইল হয়।'

আরো পড়ুন 'কঠিন ঠাণ্ডা নাগেছে বাহে'

একই গ্রামের বৃদ্ধ দিনমজুর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আব্দুল করিম বসে আছেন আগুন জ্বালিয়ে। বলেন, 'ঠাণ্ডাতে টেকা যায় না। কতখোন আর আগুন জ্বালে থাকি। আর খড়ি-খ্যারবা কতো হয়। আইজ চার দিন থাকি প্যাডের অসুক। ভালো হবার নাগছে না।'

কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, 'শীতের দাপট কিছুটা বেড়েছে। শীতার্তদের জন্য ৯ উপজেলায় ৫৭ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার বিতরণ কাজ চলছে। এ ছাড়া নতুন করে আরো ৪০ হাজার কম্বল ও ১০ হাজার শিশু উপযোগী গরম কাপড়ের চাহিদার কথা জানানো হয়েছে।'  

 

 


মন্তব্য