kalerkantho


তাপাত্রা ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শীতে জবুথবু সৈয়দপুরের মানুষ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি    

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:০৮



তাপাত্রা ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শীতে জবুথবু সৈয়দপুরের মানুষ

ফাইল ছবি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গত কয়েক দিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে হিমেল হাওয়ায় শীত জেঁকে বসেছে। প্রচণ্ড শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে উপজেলার ও পৌর এলাকার মানুষ। তবে সবচেয়ে কাতর হয়ে পড়েছে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষগুলো। আর শীতে তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাজে যেতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

এসব মানুষের নিত্যদিনের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মারাত্মক সংকটে পড়েছেন। অনেক পরিবার এক বেলা খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে গোটা দিন পার করছেন। আর শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। 

শীতজনিত রোগে আক্রান্ত এসব মানুষদের তাদের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করছেন। ফলে হাসপাতালে শীতজনিত রোগির সংখ্যাও বেড়ে গেছে কয়েকগুন। তাদের শয্যা রেখে চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।

আজ সোমবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবস্থিত আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চলতি শীত মৌসুমের এটিই এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
 
গত কয়েক দিনে শীতের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার অনেক কমে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা মিলেছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, কনকনে শীতে অভিভাবকরা তাদের আদরের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাচ্ছেন না।
 
আজ সোমবার দুপুরের পর সূর্যের মুখ দেখা মিললেও তাতে ছিল না তেমন উত্তাপ। অনেকে আবার খঁড়কুটো জ্বালিয়ে একত্র হয়ে বসে শীতের হাত থেকে রক্ষা ব্যর্থ চেষ্টা চালান। এর আগে গত শনিবার ও রবিবার সূর্যের দেখা মিলেনি। এ দুই দিনে সারাদিন ধরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল এ জনপথ। সেই সঙ্গে ছিল হিম হাওয়া বয়ে যায়। রাতে বৃষ্টির মতো ঝির ঝির করে কুয়াশা পড়তে থাকে। কাছের জিনিসও দেখা মিলছিনা। গাড়িগুলোতে দিনের বেলায়ও হেড লাইট কিংবা ফক লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

এদিকে,হাঁড় কাঁপানো শীতে মানুষ শহরের শীতের গরম ও পুরাতন কাপড় দোকানগুলো ভিড় করছেন। কিন্তু আকাশচুম্ভী দামের কারণে তারা সাধ্যমতো শীতের পুরাতন কাপড় সংগ্রহে ব্যর্থ হচ্ছেন।
 
সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার পর্যন্ত উপজেলায় সরকারিভাবে ৪ হাজার ২৯১ পিস নতুন কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দকৃত কম্বল উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মাধ্যমে শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে আরো শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আরো চাহিদা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।                        

 


মন্তব্য