kalerkantho


শীতে কাঁপছে রোহিঙ্গা শিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:০৩



শীতে কাঁপছে রোহিঙ্গা শিবির

শীতে কাঁপছে রোহিঙ্গা শিবির। কম্বলে আর কাঁথায়ও কোনো কাজ হচ্ছে না। ঝুপড়ি ঘরগুলোর পলিথিনের ছাউনির ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানির মতো করে কুয়াশা পড়ছে। বস্তির পার্শ্বে বেড়া হিসাবে আড়াল দেওয়া পলিথিনের ছিদ্র দিয়ে ঢুকছে হিম বাতাস। পাহাড়ী মাটিতে কেবল চাটাই বিছিয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে কোনোভাবেই রেহাই মিলছে না। সব মিলিয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডায় মোটেই ভালো নেই রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের ই-২ বস্নকের মাঝি (রোহিঙ্গা নেতা) আবদুল হামিদ (৩০) গতরাতে জানান, 'আমি গত ১০ বছর ধরে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছি। এতকাল এখানে এরকম শীত আর অনুভুত হয়নি। এই প্রথম এরকম তীব্র শীত অনুভব করছি।' তিনি বলেন, এনজিওগুলো যেসব কম্বল দিয়েছে তার সবগুলোই হচ্ছে নিম্ন মানের এবং হালকা-পাতলা। তাই এসব কম্বলে শীত সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

বালুখালী শিবিরের রোহিঙ্গা লালু মাঝি জানান, 'রোহিঙ্গা শিবিরের বসিত্মগুলো করা হয়েছে তাৎক্ষণিক সময়ের মধ্যে। একদম পাতলা পলিথিন ছাউনি এবং পার্শ্বের বেড়া হিসাবে ব্যবহার করায় এ ক'মাসে এসব পলিথিনে ছিদ্র হয়ে গেছে। তাই ছিদ্র দিয়ে রাতে যেমনি কুয়াশা পড়ছে তেমনি হিম শীতল বাতাসে কাবু করছে রোহিঙ্গাদের।'

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ই-২ বস্নকের বাসিন্দা আবুল কালাম (৩৫) জানান, 'শীতে বড্ড কষ্টে আছি। আমার স্ত্রী ও ৬ জন ছেলে-মেয়েসহ আমরা পরিবারের ৮ সদস্যের মধ্যে কম্বল রয়েছে মাত্র ২টি। এমন শীতে এই ২টি কম্বলে কিভাবে রাত কাটাচ্ছি সেটা আমাদের ওপরওয়ালা ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।'

তিনি আরো জানান, শীত ছাড়াও খাবার নিয়ে আরো বেশি কষ্টে আছি। কেননা গত দুই মাস ধরে শিবিরটির এই ব্লকের ২৫ পরিবারের রোহিঙ্গাদের মাঝে গত দুই মাস ধরে চাল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি প্রতি মাসে পরিবার পিছু ২৫ কেজি করে চাল সরবরাহ দিয়ে থাকে। কিন্তু কি কারণে পরিবারগুলোতে দুই মাস ধরে চাল সরবরাহ বন্ধ তার কারন জানা যায়নি গতরাতে সংস্থাটির কাউকে না পাওয়ায়।

অনুরূপ কুতুপালং ই-২ বস্নকের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪৫) গতরাতে জানিয়েছেন, তার পরিবারের ১০ জন সদস্যের মধ্যে কম্বল রয়েছে মাত্র ১০ টি। এই ১০টি কম্বল নিয়ে তীব্র শীতের রাত কাটাতে কাহিল হয়ে পড়ছে পরিবারটি।

তীব্র শীতের কারনে রোহিঙ্গা শিবিরে নানা রোগ ব্যধির প্রকোপ বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মিসবাহ উদ্দিন গতরাতে জানান, 'বাস্তবে কক্সবাজার এলাকার তাপমাত্রা সারাদেশের তুলনায় অনেক সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তাই এখানকার রোহিঙ্গা শিবিরে শীত অনুভুত হলেও রোগ ব্যধি এখনো তেমন ব্যাপক হারে ছড়ায়নি।' কক্সবাজারের আবহাওয়া অফিস সূত্রে গতরাত ৮টায় জানা গেছে, কক্সবাজার এলাকায় গতকাল সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.০৫ এবং সর্বোচ্চ ছিল ২৪, ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


মন্তব্য