kalerkantho


অস্ত্র, নৌকাসহ অপহৃত ছয় জেলে উদ্ধার

সুন্দরবনে 'বন্দুকযুদ্ধে' ডাকাত নিহত

বাগেরহাট প্রতিনিধি    

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:১৭



সুন্দরবনে 'বন্দুকযুদ্ধে' ডাকাত নিহত

সুন্দরবনে নৌপুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' ফরিদ শেখ (৩০) নামের এক ডাকাত নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলাধীন কাতিয়ারখালে এ 'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনা ঘটে।

পরে ডাকাতের ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬০ রাউন্ড গুলি, একটি নৌকা, সাতটি মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ছয় জেলেকে উদ্ধার করা হয়। দস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার ছয় জেলে অক্ষত রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।

নিহত ফরিদ শেখের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার বৌদ্ধমারী গ্রামে। তিনি সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ছোট বাহিনীর সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশ জানায়। 

আরো পড়ুন শেরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪০ 

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাধীন ধানসাগর নৌপুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলী আকবর জানান, রবিবার ও সোমবার দুই দিনে সুন্দবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে দস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে ছয় জেলেকে অপহরণ করে। অপহৃত ওই জেলেদের উদ্ধারের জন্য সোমবার গভীর রাতে নৌপুলিশ সদস্যরা ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনে অভিযান শুরু করে।

আজ মঙ্গলবার ভোরে নৌপুলিশ সদস্যরা সুন্দরবনের কাতিয়ার খাল এলাকায় পৌঁছালে একটি নৌকা দেখতে পান। এ সময় তারা নৌকাটি থামাতে সংকেত দেন। কিন্তু সংকেত অগ্রাহ্য করে নৌকার ভেতর থেকে নৌপুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। নৌপুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে গোলাগুলির একপর্যায়ে সাত-আট জন দস্যু নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান।

আরো পড়ুন মোহনগঞ্জে জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ

এএসআই আলী আকবর আরো জানান, দুস্যদের ওই নৌকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ছয় জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় নৌকা তল্লাশি করে ওই দস্যুর মৃতদেহ, দস্যুদের ব্যবহৃত দুটি এয়ারগান, ১৬০ রাউন্ড গুলি, সাতটি মোবাইল ফোন এবং দস্যুদের একটি নৌকা উদ্ধার করা হয়।

শরণখোলা থানার ওসি কাবিরুল ইসলাম জানান, নৌপুলিশের পক্ষ থেকে নিহত দস্যু ফরিদের মৃতদেহ, অস্ত্র, গুলি এবং মালামাল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ওসি জানান।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ বাধাল গ্রামের ইসমাইল ফকিরের ছেলে শাহ আবুল ফকির (২৮), উত্তর রাজাপুর গ্রামের ইসমাইল খানের ছেলে সুমন খান (২০), একই গ্রামের মোফাজ্জেল আকনের ছেলে সুমন আকন (২৮), রতিয়া রাজাপুর গ্রামের রুহুল পহলানের ছেলে ইসরাফিল পহলান (২৩), মোংলা উপজেলার খাসেরডাঙ্গা গ্রামের নিরোধ হালদারের ছেলে প্রতুল হালদার (২৮) এবং জয়মনি গ্রামের ছত্তার হাওলাদারের ছেলে হাফিজ হাওলাদার (২৫)। 


মন্তব্য