kalerkantho


চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার

সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিন দস্যু নিহত

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৪৭



সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিন দস্যু নিহত

ছবি : কালের কণ্ঠ

সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু সুমন বাহিনীর তিন দস্যু নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলাধীন সুকপাড়া চর এলাকায় দস্যুদের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির পর দস্যুরা পিছু হটলে র‍্যাব সদস্যরা বন তল্লাশী করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন দস্যুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এসময় বন থেকে দস্যুদের ব্যবহৃত চারটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি ধারালো অস্ত্র এবং ৩৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

নিহত দস্যুরা হচ্ছেন, মো. জাকারিয়া সরদার (৩০), মো. জুলফিকার শেখ (৩৫) এবং মো. খোকন মিনা (৪৩)। নিহত ওই দস্যুরা সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর সদস্য বলে র‍্যাব সুত্র জানায়। তবে র‍্যাব সদস্যরা ওই দস্যুদের বাড়ি এবং তাদের বাবার নাম জানাতে পারেনি।

র‍্যাব বরিশাল-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সোয়েল রানা প্রিন্স জানান, সুন্দরবনে বনদস্যু সুমন বাহিনীর অস্থিয়ী একটি আস্তানার সন্ধান পেয়ে পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা গতকাল বুধবার রাতে সুন্দরবনে অভিযান শুরু করে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে র‍্যাব সদস্যরা সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুকপাড়া চর এলাকায় বনের মধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখে। এসময় র‍্যাব সদস্যরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বনের মধ্যে থেকে র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। পরে র‍্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। 

কোম্পানি কমান্ডার মেজর সোয়েল রানা প্রিন্স আরো জানান, প্রায় ৪০ মিনিট ধরে গোলাগুলির এক পর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটলে বন তল্লাশী করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন দস্যুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় বন থেকে দস্যুদের ব্যবহৃত দুটি একনালা বন্দুক, একটি কাটারাইফেল, একটি পাইপগান, চারটি দেশি তৈরি ধারারো অস্ত্র এবং ৩৯ রাউন্ড গুলি এবং গুলি রাখার তিনটি বান্ডুলিয়ার উদ্ধার করা হয়।

কোম্পানি কমান্ডার মেজর সোয়েল রানা প্রিন্সের দেওয়া তথ্য মতে, নিহত ওই তিন দস্যু সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। তবে তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যার তাদের নামপরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। নিহত দস্যুদের মৃতদেহ এবং অস্ত্র ও গুলি শরণখোলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এব্যাপারে র‍্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

র‍্যাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত দুই মাসে ডাকাত এবং জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা ৩৫ জনের অধিক জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলার সোনারচর এলাকায় জলদস্যুরা নয়টি ট্রলারে ডাকাতি করে চার জন জেলেকে অপহরণ করে। যারা জলদস্যুদের নিকট হতে পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেছে।

প্রসঙ্গত এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবনের শরণখোলা উপজেলাধীন কাতিয়ার খালে নৌ পুলিশের সঙে বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু ফরিদ শেখ নিহত হয়। 

 

 


মন্তব্য