kalerkantho


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ

দেশের সর্ববৃহৎ একগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ

বাকৃবি প্রতিনিধি   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:০৪



দেশের সর্ববৃহৎ একগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ

ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রকৃতি কন্যা খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মসজিদটি দেশের সর্ববৃহৎ এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য স্থাপত্যের মধ্যে এটি অন্যতম। ক্যাম্পাসে ঢুকলেই কৃষি অনুষদের পাশে চোখে পড়ে বৃহৎ মিনার বিশিষ্ট স্থাপনাটি। মসজিদটির অসাধারণ নির্মাণশৈলী ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে এক নতুন রুপ দিয়েছে। ক্যাম্পাসে এটি কেন্দ্রীয় মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত।

জানা গেছে, প্রায় তিন যুগ আগে ১৯৮৩ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মুহাম্মদ আমিনুল হক। এরপর ১৯৯৫ সালের ২ জুন মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়। চতুর্ভুজ আকৃতির এই মসজিদের মোট তিনটি অংশ রয়েছে। 

মূল ভবনটি মসজিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে অবস্থিত। মূল ভবনে ২৬টি কাতারে নামায পরা যায়। ভবনের বারান্দায় ১৩টি কাতার রয়েছে। মূল অংশ এবং বারান্দা মিলে প্রায় ৪০০০ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে। এর স্থাপত্য শৈলীর সব থেকে আকর্ষণীয় দিক হলো মূল কাঠামোর মধ্যবর্তী উপরের বিরাটকার গম্বুজ যা মোট ১২টি পিলারের উপর অবস্থিত। 

গম্বুজের উপর রয়েছে একটি অর্ধ চাঁদ। মসজিদের আঙ্গিনাকে মূল ক্যাম্পাস থেকে পৃথক করার জন্য দেয়ালে ঘেরা তিনটি করিডোর রয়েছে। যা মসজিদের বারান্দার এক পাশ থেকে শুরু হয়ে অন্য পাশে গিয়ে শেষ হয়েছে। এসব করিডোরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগানবিলাস ফুলের সমোরাহ। যা মসজিদটিতে এনে দিয়েছে এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য। 

মসজিদের বারান্দায় প্রবেশ করার জন্য পূর্ব পাশে মোট ২টি, উত্তর এবং দক্ষিণে ২টিসহ মোট ৪টি দরজা রয়েছে। এরপর বারান্দা থেকে মসজিদটির মূল ভবনে প্রবেশ করতে ৮টি দরজা রয়েছে। এছাড়া মসজিদের পশ্চিম পাশে মুসল্লিদের ওজু করার জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে। পূর্বপাশে রয়েছে একটি বিস্তৃত খোলা মাঠ। মসজিদে ঈদের নামাযও আদায় করা হয়। ঈদের দিনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ আশেপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসে। এসময় মুসল্লিদের আগমন যেন মিলনমেলায় রুপ নেয়।

মসজিদটির অসাধারণ নির্মাণশৈলী দেখেই মন জুড়িয়ে যায়। ১২৫০ একরের ক্যাম্পাসে স্থাপনাটি যেন আপন মর্যাদায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তাইতো হাজারো ব্যস্ততা ভুলে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ অন্যান্য মুসলমানরা একই কাতারে এক মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হাজির হয় অসাধারণ নির্মাণশৈলীর এই মসজিদটিতে।

 

 


মন্তব্য