kalerkantho


নড়াইলে বিনামূল্যের বই কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি    

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:০৬



নড়াইলে বিনামূল্যের বই কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ

ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইলের লোহাগড়ায় 'শালনগর মর্ডান একাডেমী' মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারীভাবে বিনামূল্যের বই কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে গতকাল রবিবার রাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাজী মহিউদ্দীনসহ ৮ জনের নামে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রবিবার রাতে মামলার খবর পাবার পর লোহাগড়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে মামলা হয়েছে বললেও আর কোন তথ্য দিতে রাজী হননি। কাদের নামে মামলা হয়েছে এই বিষয়ে জানার জন্য ডিউটি অফিসার এ এস আই ফিরোজ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি স্যার বলেছে সকালে মামলা এন্ট্রি না হলে তথ্য দেয়া যাবে না। 

আজ সকালে মামলা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি প্রধান শিক্ষকের নাম বলেন। মামলার অন্য আসামীদের নাম জিজ্ঞেস করলে বলেন, বাকিদের নাম মামলার স্বার্থে গোপন রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এদিকে মামলা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে টালবাহানার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার লোকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, গত শনিবার রাতে শালনগর মডার্ন একাডেমীর বই হাতে নাতে ধরার পর থেকে লোহাগড়া থানার ওসি মামলা করা নিয়ে নানা টালবাহানা করছেন। লোহাগড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম অপরাধী শিক্ষক মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে টাকার বিনিময়ে অপরাধীদের ছেড়ে দেবার পায়তারা চালাচ্ছেন। পরে শালনগর ইউপি চেয়ারম্যান খান তসলুর ইসলাম মামলার বাদী হতে চাইলে বাধ্য হয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়েছেন।

এদিকে হাতে নাতে ধরা পড়া এবং বইবিক্রির অভিযোগে মামলা হবার পরেও সোমবার স্কুলে কর্তব্যরত ছিলেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। তাকে স্কুলে আসতে দেখে এলাকার অভিভাবকের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে তার অপসারন এবং গ্রেপ্তার দাবী করেছে।

থানায় মামলা এবং পুলিশের গড়িমশি বিষয়ে শালনগর ইউপি চেয়ারম্যান খান তসলুর ইসলাম বলেন, আমি গত বরিবার  রাত থেকে থানায় ফোন করেও মামলা সংক্রান্ত কোন তথ্য পাইনি। আমার কাছে জব্দকৃত বইয়ের সিজার লিস্ট আছে তাতে ২০১৮ সালের প্রায় আড়াই’শ খানা বই আছে। এ ঘটনার পরেও সোমবার ঐ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন স্কুলে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে আছে, তাহলে পুলিশের কি ভূমিকা আছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে স্কুলের নাইটগার্ড ও দপ্তরির সহায়তায় শালনগর মর্ডান একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিনামূল্যে বিতরণের বই বিক্রয় করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ২ জন পুরাতন কাগজ ক্রেতা গোপনে ওই বই বিদ্যালয় থেকে ভ্যানে করে বই নিয়ে যাবার সময়ে মন্ডলবাগ বাজার এলাকায় এলাকাবাসী বইসহ ভ্যান আটক করে। 

এসময় পুলিশে খবর দিলে পার্শ্ববর্তী লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম এসে বইগুলো জব্দ করে শালনগর ইউপি চেয়ারম্যান খান তসরুল ইসলামের জিম্মায় রাখেন। সেখানে ৭ম, ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ৪৬২ কেজি বই রয়েছে বলে জানা গেছে। 

বই ক্রেতা লাল চাঁদ জানান, শালনগর মর্ডান একাডেমীর মহিউদ্দীন স্যারের কাছ থেকে ৫০০ কেজি বই, খাতাপত্র ও রড-টিন কিনেছি। সন্ধ্যার সময় নৈশ প্রহরির কাছে টাকা দিয়ে মালামাল ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেয়।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী মহিউদ্দীন বলেন, বিদ্যালয় থেকে কিছু পুরাতন বই-খাতা বিক্রি করা হয়েছে। তার মধ্যে ২০১৮ সালের বই কিভাবে গিয়েছে তা আমার জানা নেই। মামলা হলে তার আইনগত সহায়তা নিয়ে মামলা পরিচালনা করবো।

স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নুর বিল্লাহ ও শালনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত হোসেন মোল্যা বলেন, এখানে কোন লেনদেন হয়েছে এটা ধারণা করা যায়। আজ দুপরে মামলার নকল তুলতে থানায় গেলে ওসি সাহেব বলেছেন, ২৪ ঘন্টা না গেলে মামলার নথি দেয়া যাবে না। থানা কোন ব্যবস্থা না নিলে আমরা আদালতে মামলা করবো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগসাজশের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমি মামলার বাদী হয়েছি। তবে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানার জন্য ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন।

জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তপন কুমার বিশ্বাস ঘটনাটি স্বিকার করে বলেন, সরকারি বিনামূল্যে প্রদাণকৃত বই কোন অবস্থাতেই বিক্রি করা যাবে না। এটা যিনি করেছেন সেটা অবশ্যই অপরাধ। তবে যেহেতু ব্যাপারটি মামলায় গেছে তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।


মন্তব্য