kalerkantho


কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দোকান ঘর ভেঙে জায়গা দখলের অভিযোগ

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:২৭



কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দোকান ঘর ভেঙে জায়গা দখলের অভিযোগ

ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক বিকাশ রঞ্জন তালুকদারের বিরুদ্ধে 'গাবী-বটতলা বাজারের' আব্দুল লতিফ (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীর একটি দোকান ঘর ভেঙে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক বিকাশ রঞ্জন তালুকদারের নেতৃত্বে প্রকাশ্যেই তাঁর লোকজন ওই নিরীহ ব্যবসায়ীর দোকান-ঘরটি ভেঙে পাশের নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার বিচারের দাবিতে গত দুইদিন ধরে এলাকায় গণসাক্ষর সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেছেন এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে এলাকার হিন্দু-মুসলমানসহ প্রায় ৮ শতাধিক লোক ওই কলেজ শিক্ষকের বিচারের দাবিতে এ গণসাক্ষর কার্যক্রমে সাক্ষর করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বাদশাগঞ্জ-বারহাট্টা সড়কের বটতলা নামক স্থানে এলজিইডির অধীনে থাকা ওই সড়কের দুই পাশে দোকান ঘর নির্মাণ করে গত প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে গাবী গ্রামের লোকজন সেখানে 'গাবী-বটতলা' নামে একটি বাজার বসিয়েছেন। ওই বাজারের পূর্ব পাশে উপজেলার সেলবরষ গ্রামের আবু তাহেরের মালিকানাধীন প্রায় আধা শতক জায়গার ওপর নির্মিত একটি টিনের চালা ঘর গত প্রায় ১০ বছর আগে গাবী গ্রামের আব্দুল লতিফ নামে ওই ব্যবসায়ী জায়গাসহ ঘরটি ক্রয় করে তিনি তখন থেকেই সেখানে ব্যবসা করে আসছিলেন।

কিন্তু গত প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে গাবী গ্রামের বাসিন্দা ও বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক বিকাশ রঞ্জন তালুকদার ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের ওই দোকানের জায়গাটি তার পৈত্রিক জায়গা দাবি করে তিনি আব্দুল লতিফকে ওই জায়গা থেকে তার ঘর ভেঙে নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাঁর এ হুমকিতে আব্দুল লতিফ তার দোকান ঘর ভেঙে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক বিকাশ রঞ্জন তালুকদারের নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন লোক দা-কুড়াল নিয়ে সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে জোরপূর্বক ওই দোকান ঘরটি ভেঙে পাশের 'জান' নামক নদীতে ফেলে দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক বিকাশ রঞ্জন তালুকদারের এক ভাই বর্তমানে পুলিশ সুপার আরেক ভাই সাবেক যুগ্ম সচিব হওয়ার সুবাধেই তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। ফলে তার ভয়ে এলাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায় না।

গাবী-বটতলা বাজার কমিটির সভাপতি মো. সবুজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা দেশে শুনি হিন্দুরা মুসলমানদের হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় তা সম্পূর্ণভাবে উল্টো। তিনি বলেন, প্রভাষক বিকাশ রঞ্জন তালুকদার তাঁর ভাইদের প্রভাব কাটিয়ে ওই অন্যায়ভাবে নিরীহ ওই ব্যবসায়ীর দোকান-ঘরটি যেভাবে ভেঙে নদীতে ফেলে দিয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখ জনক।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক বিকাশ রঞ্জন তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘর ভাঙার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি তখন কলেজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, দোকান ঘর ভাঙার খবরটি আমি পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তবে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দায়িত্ব নিয়েছেন।


মন্তব্য