kalerkantho


ডোমারে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে ভেজাল সার আটক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:০২



ডোমারে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে ভেজাল সার আটক

নীলফামারীর ডোমারে ১০০ বস্তা ভেজাল সার রাখার অপরাধে ওবায়দুল ইসলাম নামে এক ভেজাল সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারো তার বাড়ি থেকে ৩১ বস্তা রং মিশ্রিত ভেজাল সার আটক করে থানায় দিয়েছে স্থানীয় জনগণ। গতকাল সোমাবার গভীর রাতে উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড হংসরাজ গ্রামের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য তাসকিনার বাড়ি থেকে এই রং মিশ্রিত সারগুলি আটক করা হয়। ভেজাল সারগুলি মমিনুর ইসলামের বলে জানান ইউপি সদস্য তাসকিনা বেগম। এ ব্যাপারে থানায় তিনজন নামীয় ও তিন/চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে মামলা করা হয়েছে।

মোটা বালু ও গুড়া ইটের খোয়ায় বিভিন্ন সারের রংয়ের মত রং মিশিয়ে সার ও কীটনাশক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে মমিনুর ইসলাম(৪২) নামে এক ভেজাল সার ব্যবসায়ী। তিনি সোনারায় ইউনিয়নের জামীরবাড়ী চাকধা পাড়ার মোঃ এজাজুল ইসলাম বাঘার ছেলে। গতকাল সোমবার বিকেলে ইউপি সদস্য তাসকিনার বাড়ি থেকে ১০০ বস্তা রং মিশ্রিত ভেজাল সার জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ভেজাল সার রাখার অপরাধে তাসকিনার স্বামী ওবায়দুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই সারগুলোও মমিনুরের বলে জানিয়েছিলেন ওবায়দুল। এ জরিমানা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই বাড়ি থেকে ফের ভেজাল সার আটক করে স্থানীয় জনগণ। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় আলামিন, রামকৃঞ্চ, নিমাই ও বাবু জানান, এদের খুটির জোর কোথায়। তারা বলেন, মমিনুর দীর্ঘদিন থেকে জেলায় ভেজাল সারের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সে তার বোন জামাই ওবায়দুলের মাধ্যমে এলাকায় ভেজাল সার ও ভেজাল কীটনাশক বিক্রি করে কৃষকদের পথে বসিয়েছে। তারা ভেজাল সার ব্যবসায়ী মমিনুর ও এর সাথে জড়িত সকলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে হরিনচড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানায় মামলা করতে বলেছেন। তিনি ভেজাল সার ব্যবসায়ী মমিনুর ও এর সাথে জড়িত সকলের শাস্তির দাবি জানান।  

সার আটকের বিষয়টি স্বীকার করে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোকছেদ আলী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হায়দার আলী জানান, তিনজন নামীয় ও তিন/চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মঙ্গলবার দুপুরে মামলা হয়েছে, যার নম্বর-০৬।

এ ব্যাপারে ডোমার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কর্মকর্তা জাফর ইকবাল বলেন, এটাকে আমরা সার সদৃশ বস্তু বা ভেজাল সার বা রং মিশ্রিত বালু বলতে পারি। গত বছর আমরা অনেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল ঘটনার পরে আবার কিভাবে সার এলাকাবাসী পেয়ে আটক করল বুঝতে পারলাম না। যতটুক জেনেছি এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মামলা হয়েছে।


মন্তব্য