kalerkantho


শেকৃবিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৯

শেকৃবি প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৪১



শেকৃবিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৯

প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নিজ নিজ গ্রুপে টানাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কুমিল্লা ও ঢাকা আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুই ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা গ্রুপের চারজন ও কুমিল্লা গ্রুপের পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
 
সংঘর্ষকালে দুই গ্রুপের সদস্যরা কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের দুটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতক্ষ্যদর্শীরা।
 
ঢাকা গ্রুপের নেতা তারিক নাজির সৈকত সাংবাদিকদের জানান, কুমিল্লা গ্রুপের সদস্যরা সংঘর্ষকালে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের তিনটি কক্ষে ঢাকা গ্রুপের ৮ জন শিক্ষার্থীকে মারপিট করে আটকে রাখে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই হলের ২০৩ নম্বর কক্ষে চারজন, ৩০৮ নম্বর কক্ষে তিনজন ও ৫০৭ নম্বর কক্ষে একজন শিক্ষার্থীকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। 

এরপরে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকদের ফোন পেয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক ড. মিজানুর রহমান, ওই হলের প্রভোস্ট মোহাম্মদ ইছাক ও সহকারী প্রক্টর মহব্বত আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে আটজন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। 

এ সময় ঘটনার তথ্য নিতে গেলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং ধমক দিয়ে চলে যেতে বলেন ছাত্র উপদেষ্টা। 

কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে কুমিল্লা গ্রুপের নেতা ও শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুদ্র নাথ টুটন কালের কণ্ঠকে বলেন, রুমে তালা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারা নিজেরাই নিজেদের রুমে তালা মেরে আমাদেরকে দোষারোপ করছে। 

ঢাকা গ্রুপের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, কুমিল্লা গ্রুপ রাত দুইটায় টিএসসিতে তাদের উপর আগে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর তাদের কয়েকজনকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে কুমিল্লা গ্রুপ।

তবে টুটন দাবি করেন, তাদের উপরই প্রথমে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের গ্রুপের পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। 

এ ব্যাপারে প্রক্টর ড. ফরহাদ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে ছাত্র পরামর্শক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক ও প্রক্টরকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য