kalerkantho


ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন চাঁদপুরের আলু চাষিরা

চাঁদপুর প্রতিনিধি    

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৯:১৩



ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন চাঁদপুরের আলু চাষিরা

প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন চাঁদপুরে আলু চাষিরা। গত মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন এই জনপদের কয়েক হাজার কৃষক। এতে আলু চাষ নিয়ে অনেকটা হতাশায় পড়েন তারা।

বৈরি আচরণে অনেকেই আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তবে লাভজনক হওয়ায় শেষপর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়ান কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর দিকটি ইতিবাচক বলছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করেন চাঁদপুরের হাজারো কৃষক। কিন্তু এবার তার প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। একদিকে, বন্যার পানি নেমেছে ধীর গতিতে। অন্যদিকে, গতমাসের টানা বৃষ্টি। ফলে মারাত্মক প্রাকৃতি বিপর্যয়ের মুখে পড়েন কৃষকরা। তাররও থেমে নেই এই জনপদের আলু চাষিরা।

সব বাধা কাটিয়ে ফের জমি প্রস্তুতে তারা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। জমি চাষ, আলু বিজ রোপণ এবং বালাই নাশক ছিটানো হচ্ছে। কারণ, আলু চাষে তাদের ভাগ্য পাল্টে। তবে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহজ শর্তে এবং সুদমুক্ত ঋণদানের দাবিও জানান কৃষকেরা।

সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের আামনউল্লাহপুর গ্রামের কৃষক সফিক বেপারী বলেন, গতবছর আলু তোলার সময় বৃষ্টির কবলে পড়ে ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। তারপরও আগ্রহ নিয়ে এবারও আলু চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু দুই দফার বৃষ্টিতে সবকিছু মাটি। তবে জমিতে অন্যকিছু যে চাষ করবো, সেই পরিস্থিতিও ছিল না। ফলে সব দুঃখ কষ্ট ভুলে আবার আলু চাষ শুরু করেছি।

পাশের রালদিয়া গ্রামের কৃষক মজিবুল হক বলেন, সরকার যদি সহজ শর্তে এবং সুদমুক্ত ঋণদান করে তবে আমাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো। 

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, হাজীগঞ্জের উত্তরাঞ্চল এবং কচুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে আলু চাষ হয়ে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. জাকির হোসেন বলেন, চাঁদপুরের মাটি বেলেদোঁয়াশ ও পলিদোঁয়াশ প্রকৃতির। এতে পরিবেশগত কারণে আলু চাষের জন্য সহায়ক। একাধিক জাতের চাষ হলেও ডায়মন্ট ও মুলাটা জাতের আলু এখানে উৎপাদন হয় বেশি। ফলে লাভজনক হওয়ায় আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশি, এমনটা ইতিবাচক দিক।

ওই কৃষি বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, চাঁদপুরে গতবছর ১৩ হাজার এক শ ৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। মোট উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে ২৭ হাজার মেট্রিক টন। এতে হেক্টর প্রতি উৎপাদন ছিল প্রায় ২১ মেট্রিক টন। তবে হতাশার কথাও বলে তিনি। কারণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে এবার চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র দশহাজার হেক্টর জমি আলুু চাষের জন্য উপযোগী করা হয়েছে। অথচ গতবছর ঠিক একই সময় জমিতে আলু বীজ গুটি ধরতে শুরু করেছিল।  


মন্তব্য