kalerkantho


নীলফামারীতে সক্রিয় জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তার

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:১৫



নীলফামারীতে সক্রিয় জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি : কালের কণ্ঠ

নীলফামারীতে সক্রিয় জেএমবি সদস্য তৈয়ব আলীকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলা শহরের আনন্দবাবুর পুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আজ বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আটক তৈয়ব আলী জলঢাকা উপজেলার গোলমুণ্ডা ইউনিয়নের তিলাই গ্রামের মৃত আছানতুল্লাহর ছেলে।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তৈয়ব আলীকে শহরের আনন্দবাবুর পুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা কাউন্টার টেরিজম ইউনিটের সদস্যরা। গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৈয়ব আলী নিজেকে জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। 

তৈয়ব জলঢাকা উপজেলায় ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট গোলমুণ্ডা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাধব চন্দ্র রায় হত্যা মামলার মুল পরিকল্পনাকারী। জেএমবির বিভিন্ন মিটিং তার বাড়িতে হয় এবং সে সংগঠনের চাঁদা সংগ্রহকারী। শিক্ষক মাধব হত্যার আগে ও পরে তার বাড়িতেই এ সংক্রান্ত একাধিক মিটিং হয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুব আলম বলেন, এর আগে ওই মামলায় জেএমবি সদস্য বজলুর রহমান (২৭) ও তরিকুল ইসলামকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। তৈয়ব আলীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খান বলেন, তৈয়ব আলী জেএমবির সক্রিয় সদস্য এবং শিক্ষক মাধব চন্দ্র রায় হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী। এর আগে তরিকুল ও বজলুরকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা দুইজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। তাতে তারা তৈয়ব আলীর বাড়িতে শিক্ষক মাধব চন্দ্র রায়কে হত্যার পরিকল্পনা হওয়ার কথা বলেন।  এ ছাড়া  রংপুরের জাপানি নাগরিক কোনিও হোসি হত্যা মামলার আসামী আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাসুদের শ্বশুর তৈয়ব আলী।

উল্লেখ্য, জলঢাকা উপজেলা শহরের কালিবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা মাধব চন্দ্র রায় উপজেলার গোলমুণ্ডা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট শহর থেকে ইজিবাইকযোগে সকাল ১০টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে গোলমুণ্ডা ইউনিয়নের ঘাটের পার এলাকায় পথ রোধ করে রিভলবার দিয়ে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে দুটি মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যান জেএমবির সদস্যরা। 

এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঘটনার ছয়দিন পর ১৪ আগাস্ট রাতে মারা যান তিনি। এঘটনায় সে বছরের ১২ আগাস্ট রাতে মাধব চন্দ্র রায়ের ছোটভাই রতন চন্দ্র রায় বাদি হয়ে অজ্ঞাত ছয় জনকে আসামী করে জলঢাকা থানায় একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।


মন্তব্য