kalerkantho


বেলকুচিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ভাংচুর

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:৪৬



বেলকুচিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ভাংচুর

ছবি : কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক এসএম ওমর ফারুক সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এর প্রতিবাদে তাদের সমর্থকরা উপজেলা সদরের রাস্তাঘাটে রেড়িকেড দিয়ে ২০/২২ টি সিএনজি অটোরিক্সা ও বাস-ট্রাক ভাংচুর এবং হেমা পরিবহন বাসে অগ্নি সংযোগ করে। এর আগে বেলকুচি পৌরসভা কার্যালয়ে হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও মেয়রকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মেয়র আশানুর বিশ্বাসের দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। 

জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে ডিবি পুলিশের দল বিশেষ অভিযানে ফারুক ও রেজাকে গ্রেপ্তার করে। সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রওশন আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, গ্রেপ্তারের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে রেজা ও ফারুকের সমর্থকরা বেলকুচি উপজেলা সদরের রাস্তাঘাটে রেড়িকেড দিয়ে ২০/২২ টি সিএনজি অটোরিক্সা ও বাস-ট্রাক ভাংচুর ও হেমা পরিবহন বাসে অগ্নি সংযোগ করে। খবর পেয়ে বেলকুচি থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেলকুচি সার্কেল) মোঃ রেজা সরোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন বলে তারা জানিয়েছেন। 

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বে কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী পৌরসভায় সভা চলাকালীন সময়ে সভাকক্ষের দরজা লাথি মেরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও ইজারার ভাগবাটোয়ারাসহ কর্মচারি নিয়োগের বাণিজ্যের কথা উত্থাপন করে পিস্তল ধরে মেয়রের কাছে যুবলীগ নেতা রেজা ও সহযোগীরা ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। 

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা মেয়রকে লাঞ্ছিত করে তারা। ওইদিন সন্ধায় দ্রুত বিচার আইনের ধারায় মেয়র বেলকুচি থানায় মামলা জমা দিলেও ওসি সাজ্জাদ হোসেন আসামী পক্ষের সাথে যোগসাজোস করে মামলা রেকর্ড না করে নানান তালবাহানা করেন। এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার আইনের ধারা সংযোজন করে মেয়র সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে অভিযোগ করেন। ঘটনার দিন রাতে বেলকুচি থানায় রেকর্ডকৃত চাঁদাবাজির মামলার সাথে দ্রুত বিচারের ধারা সংযোজন করে তদন্তভার বেলকুচি থানা পুলিশের পরিবর্তে ডিবি পুলিশে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক। 

দ্রুত বিচার আইনের ধারা সংযোজনের রেকর্ডকৃত মামলায় বেলকুচি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা, যুগ্ন আহবায়ক এসএম ওমর ফারুক সরকার ও জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাময়িক বহিস্কৃত সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেনসহ জ্ঞাত ১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। 

তবে বেলকুচি পৌরসভার কাউন্সিলর বদর আলী প্রামানিক জানান, বেলকুচি পৌরসভায় ১২ ডিসেম্বর কোন রকম চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। কলেজের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ধাওয়া পাল্টা হয়েছে। বেলকুচি আওয়ামী লীগে দুটি গ্রুপ থাকার কারনে একপক্ষ আরেক পক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এটি আসলে রাজনৈতিক হয়রানীর জন্য করা হয়েছে। 

১২ তারিখের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইদুর রহমান জানান, কলেজের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের আহবায়ক রেজা মেয়রের ছেলে বেলকুচি ডিগ্রী কলেজের ভিপি মিঠু বিশ্বাসকে ধাওয়া দিলে, মিঠু বিশ্বাস দৌড়ে পৌরসভায় আশ্রয় নেয়। তার পিছু নিয়ে রেজা ও তার সর্মথকরা ভেতরে প্রবেশ করে গালিগালাজ করে। তবে এর আগে বা পরে চাঁদা চাওয়ার কোন বিষয় ঘটেছে কিনা তা তিনি জানেন না। 

 

 

 


মন্তব্য