kalerkantho


মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে

পাঁচ মাস পর প্রকৌশলী হত্যার রহস্য উৎঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৪৪



পাঁচ মাস পর প্রকৌশলী হত্যার রহস্য উৎঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

ছবি : কালের কণ্ঠ

নিহত প্রকৌশলী সিদ্দিক আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে বিগত পাঁচ মাস পর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটন করেছে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ রবিবার দুপুরে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কেরানীগঞ্জের কদমতলীস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান সাইদ মৌখিক ও লিখিত বক্তব্যে এ কথা জানান। 

গোয়েন্দা পুলিশ এ হত্যা কাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- মোঃ রাসেল (৩০), হিরু হাওলাদার (৩০) ও মোঃ তাজুল ইসলাম তাজু (৩০)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হিরু হাওলাদার প্রোকৌশলী সিদ্দিক আহমেদ হত্যার কথা অপকটে স্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান সাইদ বলেন, গত বছর ২ আগস্ট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁওস্থ বসুন্ধরা মাল্টিফুড প্রডাক্টস লিঃ এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিটকো এসোসিয়েট এর প্রেজেক্ট ইনচার্জ ইঞ্জিয়ার সিদ্দিক আহমেদ রাত আনুমানিক ৮টার সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে রাজধানীর ১৬১ নং দক্ষিণ মিরপুরের বাড়িতে যাওয়ার সময় হাসনাবাদ এলাকা থেকে অপহরণ হয়। 

অপহরণকারীরা তার মোবাইল ফোন দিয়ে রাতে একাধিকববার অপহৃতের ছেলে কামরুল ইসলাম ও বিটকো কোম্পানীর এমডি দিদারুল আলমের মোবাইলে ফোন করে জানান সিদ্দিক সাহেব অপহৃত হয়েছে। তার মুক্তির জন্য দুই লাখ টাকা তাদের দিতে হবে। এ ঘটনার পর সিদ্দিক সসাহেবের পরিবারের লোকজন থানা পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যের সহযোগিতা নিয়ে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারসহ অপহৃতকে উদ্ধারের জোড় চেষ্টা চালায়। 

এক সময় সিদ্দিক সাহেবের মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৪ আগস্ট সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আইন্তা এলাকায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে পাকা রাস্তার উপর সিদ্দিক আহমেদ এর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। 

মামলাটি প্রথমে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করে। মামলার কোন ক্লু পাওয়া না গেলে মামলাটির ভার দেওয়া হয় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপর। এখানে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের এস আই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজুর রহমান আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে নিহতের মোবাইল ফোনের সন্ধ্যানে নামেন। 

এক পর্যায়ে গত ১১ নভেম্বর মাসে নিহতের মোবাইলটি পাওয়া যায় হাসনাবাদ এলাকার এক চোরামোবাইল ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর জানাযায় সে মোবাইলটি রাসেল ও হিরু নামের দুই যুবকের কাছ থেকে কিনেছে। হিরু ও রাসেলকে গ্রেপ্তারের জন্য এস আই মোস্তাফিজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালী পর্যন্ত অভিযান চালান। এক পর্যায়ে গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকার যাত্রবাড়ি এলাকা থেকে হিরুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক রাসেল ও তাজুল ইসলাম তাজুকে গ্রেপ্তার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসামী হিরুর বরাদ দিয়ে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামী হিরু পুলিশের কাছে জানান, তারা সংঘবদ্ধ একটি ছিনতাইকারী চক্র। তারা চার-পাঁচজন ছিনতাইকারী যাত্রী সেজে অটোরিক্সা সিএনজিতে বসে থাকে, অপর একজন ভাল দেখে যাত্রী তুলে অস্ত্রের মুখে সব কেড়ে নেয়। ঘটনার দিন ঠিক এ রকেমই ঘটনা ঘটেছে। 

তারা চালকসহ পাঁচজন সিএনজিতে বসাছিল, এ সময় একজন যাত্রী তুলে নেয়। যখন তারা জানতে পারলেন সে যাত্রী একজন ইঞ্জিয়ার, তখন তাকে অপহরণ করে এবং তার মোবাইল ফোন ও সাথে থাকা নগদ সাড়ে ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর সিদ্দিক সাহেবের মোবাইল ফোন দিয়ে তার স্বজনদের কাছে মুক্তিপনের জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করে। 

এরপর রাত অনেক ঘনিয়ে আসলে হাসনাবাদ ঔষধ ফ্যাক্টরীর কাছে প্রকৌশলী সিদ্দিক আহমেদকে একটি খালি প্লটে আটক করে রাখেন। এর দুইদিন পর তাকে হত্যা করে আনন্তা এলাকায় হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। 

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) রামানন্দ সরকার, ওসি ডিবি মোঃ শাহজামান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম, ডিবি ইন্সপেক্টর নাজমুল হাসান, এস আই মোস্তাফিজুর রহমান, এস আই কাজি এনায়েত হোসেন, এস আই সালাহউদ্দিন ও এস আই বিপুল চন্দ্র দাস, ডিবি এ এস আই আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এ ব্যাপারে নিহত প্রোকৌশলী সিদ্দিক আহমেদ এর ছেলে হত্যা মামলার বাদী মোঃ নুরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমার বাবা গেছে তাকে আর ফিরত পাবো না। এ হত্যা কাণ্ডের সাথে প্রকৃতভাবে যারা জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তার পূর্বক দেশের সর্ব উচ্চ শাস্তির দাবি করছি। এ শাস্তি দেখে যাতে করে আমার মত আর কোন ছেলে পিতা হারা না হয়।

 


মন্তব্য