kalerkantho


মাদকসেবীদের পুলিশে দিল প্রক্টর, ছিনতাই করল ছাত্রলীগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:০০



মাদকসেবীদের পুলিশে দিল প্রক্টর, ছিনতাই করল ছাত্রলীগ

ছবি : কালের কণ্ঠ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মফিজ লেক এলাকায় মাদক সেবন করে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করায় তাদের পুলিশে সোপর্দ করে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান। পরে ছাত্রলীগ তাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয় বলে জানা গেছে। আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মফিজ লেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, রবিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মফিজ লেক এলাকায় মাদক সেবন করছিল বহিরাগত মাদকসেবী মোহাইমিনুল ইসলাম লামন। তার সাথে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ইমাতিয়াজ এবং ইংরেজী বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ইউসুফ। এসময় শেখ হাসিনা হলের তিন ছাত্রী লেকে ঘুরতে গেলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করে ওই মাদকসেবীরা। 

এসময় তারা ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল কথা ও গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা। ভূক্তভোগী ছাত্রীরা জানায়, আমরা লেকে বসেছিলাম। ওরা মফিজ লেকে ঘুরে ঘুরে সবাইকে খারাপ কথা বলছিল। এক পর্যায়ে আমাদের সামনে এসে অশ্লীল কথা বলে এবং খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে আমরা প্রক্টরকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি এসে তাদেরকে আটক করে।

এদিকে সোপর্দ শিক্ষার্থীদের গাড়িতে তুলে থানায় রওনা হয় পুলিশ। পথিমধ্যে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে ছাত্রলীগের বহিস্কৃত কর্মী ফয়সাল সিদ্দীকি আরাফাত ২০-২৫ জন সহযোগী নিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। এসময় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ছাত্রলীগ কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয় বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানায়। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের অনুসারী এবং মন্দির ভাংচুরের দায়ে কেন্দ্র থেকে ২ বছর ধরে বহিস্কৃত। ছাত্রলীগ কর্মীরা ২ জনকে নামিয়ে নেয়। এসময় বহিরাগত লামনও গাড়ি থেকে নেমে যায়। পরে তাকে জোর করে মটরসাইকেলে তুলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। 

ইবি থানার উপ পরিদর্শক কমলেশ দাস বলেন, আমরা আটককৃতদের গাড়িতে নিয়ে আসছিলাম। রাস্তা থেকে ছাত্রলীগের আরাফাতসহ ৪০-৫০ জন দুই শিক্ষার্থীকে নামিয়ে নেয়। এসময় প্রক্টরও উপস্থিত ছিল। এ বিষয়ে ফয়সাল সিদ্দীকি আরাফাত বলেন, আমার দুই কর্মীকে আমরা নিয়ে আসি। পরে প্রক্টরের কাছে নিয়ে মুচলেকা দিয়ে নিয়ে এসেছি।

ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। দায়িত্বরত পুলিশের কাজে আমার ছাত্রলীগের কোন কর্মী বাধা ঘটালে আমরা দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, মেয়েরা আমাকে ফোন দিয়ে আকুতি করে বলে, স্যার আমাদেরকে বাঁচান। পরে আমি ছুটে গিয়ে মাদকসেবীদের আটক করি এবং ইবি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। পরের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে আমার জানা নেই।


মন্তব্য