kalerkantho


সাধারণ শিক্ষকদের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালান তিনি!

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)    

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:২৮



সাধারণ শিক্ষকদের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালান তিনি!

ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অত্যাচার আর ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। 

শিক্ষকদের দায়ের করা ওই অভিযোগে জানা গেছে, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম শিক্ষকদের সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ না দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ ভুয়া বিল ভাউচারে আত্মসাৎ করেন। ক্লাস্টারের আওতায় শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে তারিখ ও সিডিউল বিহীন কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। শিক্ষকরা নৈমিত্তিক, চিকিৎসার জন্য ছুটির আবেদন করলে টাকা ছাড়া কোনো সুপারিশ করেন না।

বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন দেন। শ্রেণি পাঠদানে কোনো পরামর্শ দেন না। শিক্ষক বদলি ও ডেপুটেশন দেয়ার অজু হাত দেখিয়ে উচ্চ হারে অর্থ নেন শিক্ষকদের কাছ থেকে। রৌমারীতে যোগদানের পর থেকে কারনে অকারনে শিক্ষকদের হয়রানি করেন। চাকরিচ্যুতের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্লিপ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের সময় দুর্নীতি করেন। এ কার্যক্রমের আওতায় ওয়েট এন্ড হাইট মেশিন, সাউন্ড বক্সসহ পুরাতন যেগুলো কাজ করে না সেগুলো ব্যবহার করতে শিক্ষকদের বাধ্য করেন। স্লিপ বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিকল্পনার ছক নিজের মতো করে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে জোর করে এক হাজার টাকা করে নেন। যেখানে ছক তৈরি বা কম্পোজ করতে খরচ হয় মাত্র ৩০ টাকা। কাবস্কাউট প্রতিজ্ঞা আইন ও মটো একটি ব্যানার ১০০ টাকায় খরচ করে প্রতিষ্ঠানদের কাছ থেকে নেন ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা করে। বিদ্যালয়ে এসএমসি গঠনের ব্যয়ভার বহনের নামে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন তিনি।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখান। সম্প্রতি মিথ্যা একটা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারি এক শিক্ষকের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুণ গ্রহণ করেন। মাসিক সমন্বয় সভা নিয়ম অনুসারে হয় না। ১০ জানুয়ারি সহকারি এক শিক্ষকের ঠ্যাং ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই কর্মকর্তা অন্যায় অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। তাঁর নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে সাধারণ শিক্ষকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছে তা মোটেও সত্য নয়। আমি নিয়ম মতো শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন এবং কড়াকড়ি আচরণ করার কারনে তারা মিথ্যা আর বানোয়াট অভিযোগ করেছে। আপনার বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করে অভিযোগ করেছে- প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা সবাই এক হয়ে আমার বিরুদ্ধে নেমেছে।’

অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছে তার কিছুটা সত্যতা রয়েছে। বিষয় গুলো আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার চৌধুরী জানান, এখনও অভিযোগ হাতে পাইনি। তবে শুনেছি যে শিক্ষক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মন্তব্য