kalerkantho


উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হিলি

মিয়ানমারের সেনা নির্যাতনের পৈচাশিকতার বর্ণনা দিলেন রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:১৭



মিয়ানমারের সেনা নির্যাতনের পৈচাশিকতার বর্ণনা দিলেন রোহিঙ্গারা

ছবি: কালের কণ্ঠ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াং হিলি আজ রবিবার সকাল ৯টায় কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় ক্যাম্পে বসবাসরত হিন্দু রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বস্ত করেন সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইয়াং হিলি বালুখালী ১নং অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করেন। বালুখালী আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর গোল ঘরে অপেক্ষমান ১৫ জন রোহিঙ্গা আলেমের সঙ্গে তিনি একান্তে আলাপ করেন।

মৌলভী আব্দুল্লাহ ও মোলভী জুবাইরের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের আলেমগন ইয়াং হিলিকে মিয়ানমার সেনা নির্যাতনের পৈচাশিকতার বর্ণনা দিয়ে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। তন্মধ্যে মিয়ানমারের উগ্রপন্থি রাখাইন জনগোষ্ঠী ও বর্মি সেনারা রোহিঙ্গাদের যেসব নির্যাতনসহ হত্যা, ঘুম, খুন ও বর্তমানে কারাগারে আটক রোহিঙ্গা যুবকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে প্রত্যাবাসিত হলে হিংস্র রাখাইন সম্প্রদায় ও বর্মি সেনা তাদের ওপর বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন চালাতে পারে এ জন্য জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

রোহিঙ্গা আলেম প্রতিনিধিদলের নেতা বলেন, প্রত্যাবাসনের নামে রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নির্মিত ক্যাম্পে নজরবন্দি রেখে শারীরিক, মানষিকসহ বিভিন্ন নির্যাতন চালাতে পারে তাই তাদের নির্মিত ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেবে না। প্রত্যাবাসনের পরপরই রোহিঙ্গাদের যার যার বাড়ি ঘরে বা বসত ভিটায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি।

পড়ালেখা করতে না পারে মতো মিয়ানমার সরকার সেখানে শিক্ষা প্রকিষ্ঠান গড়তে দেয়নি। প্রত্যাবাসনের পরপরই স্কুল, কলেজ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিতে হবে। যাতে রোহিঙ্গা ছেলে/মেয়েরা পড়ালেখা করতে পারে। তাদের ৬ দফা দাবির বর্ণনা শুনার পর ইয়াং হিলি আশ্বস্ত করেন রোহিঙ্গাদের সব ধরনের নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের স্বসম্মানে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।

এরপরও যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাসহ যেসব রোহিঙ্গাদের মেরে ফেলা ওই সব পরিবারকে অনুদান হিসেবে অর্থ বরাদ্দের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরে ইয়াং হিলি হানিফ আহাম্মদ (৬০) ফয়েজ আহমদ (৪০) ফয়সাল আহমদ (৩৭) ওমর শরীফ (৭৫) সহ ৪ জন বয়োজ্যেষ্ঠর সঙ্গে কথা বলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজী কি না জানতে চান। এ সময় তারা বলেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সমস্ত ক্ষতিপূরণ ফিরিয়ে দিলে তারা নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যেতে রাজি আছে।

পরে ইয়াং হিলি দুপুর ১টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শন করতে এলে রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ৪/৫ জন রোহিঙ্গা নেতা গত ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইনে যে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণনাশ, ধর্ষণ, কারাবন্দি রয়েছে তাদের সম্পূর্ণ বিবরণী লিখা একটি প্রতিবেদন ইয়াং হিলির হাতে তুলে দেয়া হয়।

ইয়াং হিলি নেতৃবৃন্দদের তার জন্য দোয়া করতে বলে যতদূর সম্ভব রোহিঙ্গাদের দাবি, দাওয়া ও নিশ্চয়তা নিশ্চিত করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আশ্বস্ত করেন। পরে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জের হল রুমে ক্যাম্প রেজাউল করিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠককালে ইয়াং হিলি জানতে চান ক্যাম্পে কোনো সমস্যা আছে কি না? তদুত্তরে ক্যাম্প ইনচার্জ বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পে কোনো সমস্যা নেই। তবে বর্ষাকালে অতি বৃষ্টির ফলে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য