kalerkantho


আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক একর জমির সয়াবিন পচনের আশঙ্কা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৬



লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক একর জমির সয়াবিন পচনের আশঙ্কা

লক্ষ্মীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিকল্পিতভাবে একটি চরের অর্ধশতাধিক একর জমির  সয়াবিন ক্ষেতে পানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই চরের প্রায় ৩০ জন কৃষকের আবাদ করা সয়াবিন পচনের আশংকা করা হচ্ছে। সদর উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামের চরে এ ঘটনা ঘটেছে।

এনিয়ে সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলী আহম্মদ থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রতিকার না পেয়ে রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারককে অবগত করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার মধ্য চররমনী মোহন গ্রামের চরে অর্ধশতাধিক একর জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়। প্রায় ৩০ জন ব্যক্তির মালিকীয় জমিতে এ আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার দালালবাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের আলী আহম্মদের ৮৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমিতে তিনি প্রতিবছর বর্ষাচাষীর মাধ্যমে ফসলের আবাদ করান।

সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার উত্তর চর মার্টিন গ্রামের আলমগীর, মো. মাসউদ, মফিজুর রহমান ও আবদুল মান্নান সহয়োগীদের নিয়ে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করে। ওই জমিতে তারা ভিটা বেঁধে ঘর নির্মাণ করার হুমকি দেয়। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আলী আহম্মদ বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়।

পরে থানা থেকে উভয়পক্ষকে নোটিশ করা হয়। এ খবর পেয়ে আসামিরা পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) খাল থেকে পরিকল্পিতভাবে পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করে ক্ষেতে দেয়। এতে ক্ষেতে আবাদ করা সয়াবিন ক্ষতির আশংকার করা হচ্ছে। ওই জমি ছাড়াও আশপাশ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সফিকুল ইসলাম, ফারুক ও সায়েদুল হক জানায়, তারা এ চরে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিবছর সয়াবিনকে ঘিরে তারা রঙ্গিন স্বপ্ন দেখেন। বর্তমানে মতলববাজরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে পাম্পের মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক ক্ষেতে পানি দিয়েছে। সয়াবিন সামান্য পানি পেলেই পচন ধরে। এতে তাদের সর্বনাশের আশংকা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাকসুদ আলম বলেন, নিষেধাজ্ঞার নোটিশ আমি পেয়েছি। আমরা ক্ষেতে পানি দেইনি, জনগণ পানি দিয়েছি বলে শুনেছি। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।

এ ব্যাপারে নোটিশকারী লক্ষ্মীপুর মডেল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ক্ষেতে পানি দেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এর আগে আদালতের স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য উভয়পক্ষকে নোটিশ করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।


মন্তব্য