kalerkantho


সরকারি স্বীকৃতি পায়নি ভাষা আন্দোলনে আহত গোলাম মস্তফা

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০১:১৬



সরকারি স্বীকৃতি পায়নি ভাষা আন্দোলনে আহত গোলাম মস্তফা

গোলাম মস্তফা। ছবি: কালের কণ্ঠ

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কারণে কারাভোগ, ১৯৪৮ সাল থেকেই মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ভাষা সৈনিক গোলাম মস্তফা রতন।

অবশেষে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি ২ শতাধিক ছাত্রদের নিয়ে ঢাকার রাজপথে মিছিল করে আহত হলেও আজও দেয়া হয়নি তাকে কোনো স্বীকৃতি। বহুবার ২১ পদক পাওয়ার আবেদন করলেও সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও যেন, তিনি কষ্টের ফসল দেখে যেতে পারেন এমনটাই দাবি করেন মাদারীপুরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তৎকালীন ফরিদপুর জেলার বর্তমান মাদারীপুর জেলার শিবচরে বাংলা ১৩৩২ বঙ্গাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন গোলাম মস্তফা রতন। ছোট বেলা থেকেই ছিলেন একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকটি জেলা ছাত্রদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেন।

১৯৫২ সালে তৎকালীন বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র গোলাম মোস্তফা রতন ছাত্রদের আহবায়ক নির্বাচিত হন। এদিকে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছিল বাংলার আপামর জনতা। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছিল বাংলার ছাত্র সমাজ। তারই সঙ্গে একাত্ততা ঘোষণা করে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর ও বরিশাল জেলাতেও।

১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি রতনের নেতৃত্বে ২ শতাধিক ছাত্র বরিশাল থেকে আন্দোলনে অংশ নিতে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতেই কার্জন হলের সামনে পুলিশের গুলি শুরু হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্ররা মাটিতে শুয়ে জীবন রক্ষা করেন। কিন্তু সালাম, বরকত, রফিকসহ অনেকেই শহীদ হন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বেঁচে যান রতন। এরপর পারিবারিক জীবন যুদ্ধ শুরু করেন। পরবর্তীতে শিবচরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনি শিড়্গকতা করেন। মুক্তিযুদ্ধে শিবচর অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ভাষা সংগ্রামী রতন। জাতীয় স্বীকৃতি না পেলেও ২০১২ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এইম ওয়ে) তাঁকে সম্মাননা পদকে ভূষিত করে। ৯২ বছর বয়স্ক ভাষা সৈনিক বর্তমানে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চররামরায়ের কান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ১২ বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুণছেন।

ভাষা সৈনিক গোলাম মসত্মফা রতন বলেন, ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে কারাভোগ করতে হয়। এরপর এখনো ভুলিনি ১৯৫২ সালের সেই ভাষা আন্দোলনের কথা। ওই সময় ২ শতাধিক ছাত্রদের নিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকা গিয়েছিলাম ভাষা আন্দোলনের দাবিতে। ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য কার্জন হলের সামনে গেলে শুরু হয় পুলিশের গুলিবর্ষণ। এ সময় সালাম, বরকতসহ অনেকেই শহীদ হন। মিছিলে থাকা অবস্থায় আমর পায়েও একটি গুলি লাগে। এরপর জীবনের অনেক সময় চলে গেলেও আজও পাইনি সরকারি কোন স্বীকৃতি। আমি যে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছি সে বাংলা ভাষায় আমরা কথা বলতে পেরেছি, এটা আমার কাছে একটা বড় পাওয়া।

এলাকাবাসী মিজান, আব্দুল কাদের হাওলাদার, ফরিদ, মেহেদী, মাসুদ, আরিফসহ আরো অনেকেই বলেন, আমাদের চাওয়া একটাই। সেটা হল মৃতু্য আগেই যেন গোলাম মস্তফা রতন একটা সরকারি স্বীকৃতি পান। তাকে যেন সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়। সে অনেকবার ২১ পদকের জন্য আবেদন করেছে। আজ পর্যন্ত কোনো আবেদনই গ্রহণ করে তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।

মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আজাহরুল ইসলাম বলেন, আমি জানতে পেরেছি আমাদের মাদারীপুরে একজন ভাষা সৈনিক এখনো বেঁচে আছেন। তাকে এখনো কোনো সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং সে যদি ২১ পদকের জন্য আবেদন করেন। তবে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাব। আমি চাইব সে যেন আগামীতে একটি সরকারি স্বীকৃতি পান।


মন্তব্য