kalerkantho


কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনা

কাউকে না বলেই নেপাল গিয়েছিলেন ফয়সাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি    

১৩ মার্চ, ২০১৮ ২১:০৯



কাউকে না বলেই নেপাল গিয়েছিলেন ফয়সাল

নেপালে ঘুরতে যাওয়ার কথা কাউকে বলেনি ফয়সাল। অফিস, বাসা, আত্মীয়-স্বজন কাউকে না জানিয়েই নেপাল গিয়েছিলেন ফয়সাল। ঢাকায় বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বড় বোন শিউলীকে বলেছিল ঢাকার বাইরে যাচ্ছি। এটাই পরিবারের কারো সাথে ফয়সালের শেষ কথা ছিল। 

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পৌরসভার সামসুদ্দিন সরদার ও মোসাম্মৎ সামসুন্নাহার বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৯)। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্য সে দ্বিতীয়। ২০০৪ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করার পর ঢাকা তিতুমির কলেজে এইচএসসি এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স সম্পন্ন করে ফয়সাল। ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত ফয়সাল বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রামের বাড়িতে খুব কম আসত ফয়সাল। সর্বশেষ গত ৮/৯ মাস আগে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শরীয়তপুর এসেছিল সে।

অফিস থেকে ৫ দিনের ছুটি নিলেও নেপাল যাওয়ার বিষয়ে অফিসকে অবহিত করেনি ফয়সাল। পরিবারের কেউ জানে না সে নেপাল গিয়েছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বড় বোন শিউলী আক্তারকে বলেছিল ঢাকার বাইরে যাচ্ছে সে। এটাই ছিল পরিবারের কারো সাথে ফয়সালের সর্বশেষ কথা।

আজ মঙ্গলবার সকালে শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ফয়সালদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকের মাতম চলছে স্বজনদের মধ্যে। ছেলের শোকে ফয়সালের মা সামসুন্নাহার বেগম প্রায় অচেতন। ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার 'বাবা, আমার বুকে আসো বাবা' বলে বিলাপ করছেন।

ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলে যে নেপাল গিয়েছে আমরা কেউ জানতাম না। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার অনেক পরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারি ফোন দিয়ে ফয়সাল কোথায় জানতে চান। এরপর তিনি বড় মেয়েকে ফোন দেন। তখন বড় মেয়ে জানায়,  ফয়সাল ঢাকার বাইরে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাসা থেকে বের হয়েছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। রাতে তারা নিশ্চিত হন নেপালে বিধ্বস্ত বিমানে ফয়সাল ছিল।


মন্তব্য