kalerkantho


ধর্মপাশায় জলমহাল শুকিয়ে মাছ শিকার

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০১:৩১



ধর্মপাশায় জলমহাল শুকিয়ে মাছ শিকার

ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় গত প্রায় ২০ দিন ধরে শ্যালো মেশিন দিয়ে জলমহাল শুকিয়ে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে দশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এভাবে জলমহাল শুকিয়ে  মাছ ধরায় সেচ কাজও ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এই সময়ে জলমহালের পানি কমে আসায় এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি জলমহালের এক পাশে ৫-৬টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে জলমহাল শুকিয়ে মাছ শিকার শুরু করেন।

এ বছরও ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি থেকে এভাবে মাছ শিকার শুরু করেছেন ওই অসাধু ব্যক্তিরা। আর তা চলবে চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। জলমহাল ইজারার নীতিমালা অনুযায়ী জলমহালের পানি শুকিয়ে মাছ ধরার কোনো নিয়ম না থাকলেও এখানে গত প্রায় ২০ দিন ধরে এভাবেই প্রকাশ্যে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে রুই, কাতল, কালবাউশ, মেনি, পাবদা, আইড়, শোল, গজার, ফলি, চিতল, তারা বাইম, ছোট চিংড়ি ও গদলা চিংড়িসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি ওই সব জলমহাল সংলগ্ন বোরো জমিতে সেচ কাজও ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ২০ একর আয়তনের ঊর্ধ্বে ৬৮টি ও ২০ একরের নিচে ৪৫টি জলমহাল রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার এগরার বিল, ফাঁসুয়া জলমহালের আওতাধীনে থাকা জিনাইরিয়া বিল, মরা কংস, চাপলার বিল, চট্টনিয়ার বিল, জলধরা, কালিজানা, কেউডির বিল, ইংরার বিল, শুনুইর খুঁড় ও শৈল চাপরা বিলসহ উপজেলার বেশির ভাগ জলমহালই এখন শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচে মাছ ধরা হচ্ছে।

উপজেলার চাইপলা নামক জলমহালের ইজারাদার জৌলসা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি বাবলু মিয়া বলেন, আমি শ্যালো মেশিন বসিয়ে মাছ শিকার করিনি। মূলত স্থানীয় কৃষকরা ওই জলমহাল থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে তারা তাদের বোরো জমিতে পানি সেচ দিচ্ছেন। আমি শুধু সেখানে লোকজন নিয়োজিত করে মাছ শিকার করেছি। এতে আমার কোনো দোষ নেই।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যক্তিরা বেশি লাভের আশায় আমাদের এ উপজেলার জলমহালগুলোকে ধংস করে দিচ্ছে। তবে জলমহালগুলোকে রক্ষা করতে হলে উপজেলা প্রশাসনসহ আমাদের জন প্রতিনিধিদেরকেও এ ব্যাপারে নজরধারী বাড়াতে হবে।

উপজেলা জৈষ্ঠ্য মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকি কালের কণ্ঠকে বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকেই এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। তবে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, শ্যালো মেশিন দিয়ে জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। জলমহাল শুকিয়ে যারা মাছ ধরছে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং আমি মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।



মন্তব্য