kalerkantho


ইসলামপুরে এইচএসসি কেন্দ্রে বাড়তি উত্তরপত্র, দুজনকে জরিমানা

জামালপুর প্রতিনিধি    

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:০৬



ইসলামপুরে এইচএসসি কেন্দ্রে বাড়তি উত্তরপত্র, দুজনকে জরিমানা

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত তিনটি উত্তরপত্র এবং বৃত্তভরাট করা ওএমআর শিট জব্দ করে কেন্দ্র সচিবসহ দুইজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার বেলগাছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনুসন্ধানে উত্তরপত্র তিনটি পাওয়া যায়।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার বিকেলে বেলগাছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রে অনুসন্ধান চালান। ওই দিন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) একাদশ শ্রেণির হিসাব বিজ্ঞান নীতি প্রয়োগ ১ বিষয়ে অংশ নেয় ৪৬ জন পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষা শেষে বিকেল ৫টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাতা গুণে মোট ৪৯টি উত্তরপত্র পান। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার চাইতে তিনটি উত্তরপত্র বেশি হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনুসন্ধানে অসদুপায় অবলম্বনের মাধ্যমে বাড়তি তিনটি উত্তরপত্রের খাতা কেন্দ্রের বাইয়ে পাঠিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে উত্তরপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য বেরিয়ে আসে।

অনুসন্ধানে দুটি উত্তরপত্র ও ওএমআর শিটের ওপর ও পেছনের অংশে কলমের কালি দিয়ে তারকা চিহ্ন পাওয়া যায়। তারকা চিহ্নিত ওএমআর শিট দুটি ৬১৪১৫৪ ও ৬১৪১২১ রোলনম্বধারী পরক্ষার্থীর। পরে অতিরিক্ত তিনটি উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট জব্দ করে কেন্দ্র সচিব এ কে এম মোস্তাফা কামাল ও অফিস সহায়ক মো. রেজাউল করিম বেলালকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্তব্যরত পুলিশ তাদেরকে আটক করে উত্তরপত্রসহ থানায় নিয়ে যায়।

পরে রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ আইনের ১১/খ ধারায় কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফা কামালকে ৪০ হাজার টাকা এবং অফিস সহায়ক মো. রেজাউল করিম বেলালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ করে তারা মুক্তি পান। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউল করিম ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তাফা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই কেন্দ্রে উত্তরপত্রের খাতা পরীক্ষা কক্ষের বাইরে পাঠিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে উত্তরপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ থাকায় আমরা এ অভিযান পরিচালনা করি। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্রের রোল নম্বরধারী পরীক্ষার্থীদের শনাক্ত করা যায়নি। তাই তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে বহিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তী পরীক্ষা চলাকালে তাদের ওপর আমাদের নজর থাকবে। 


মন্তব্য