kalerkantho


আশুলিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:২৪



আশুলিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠ আশুলিয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিতর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানেরই একজন বিপণন (মার্কেটিং) কর্মকর্তাসহ দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিভাবে এই দুজনের মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত না হলেও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনে তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় শিমুলিয়া ইউনিয়নের জিরানী বাজার এলাকায় হাজী আনোয়ার মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বারের তালাবদ্ধ 'রিসিপশন' কক্ষের ভেতর থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই বিপণন কর্মকর্তার নাম ফরহাদ হোসেন (২৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার কাঠবালা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিপণনের (মার্কেটিং) কাজ করতেন। নিহত অপর ব্যক্তি হলেন নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার মহাদিঘী গ্রামের মো: কুদ্দুস আলীর ছেলে নাবিনূর (২৪)। তিনি ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি কাঠের দোকানের কর্মচারী।

ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনিশিয়ান অসীম মল কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে ফরহাদ ঘুম থেকে উঠে বাসায় নাস্তা করতে যান। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সে বাসায় না যাওয়ায় তার ছোট ভাই শরিফুল তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাকতে আসে। তবে অনেক ডাকাডাকি করলেও ফরহাদের কোনো সাড়া মিলেনি। এ সময় তিনি (অসীম মল) এসে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শাটার বাইরে থেকে কিছুটা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু ভেতর থেকে কলাপসিবল গেইট তালাবদ্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিপশন কক্ষ থেকে ফ্ল্যোরে পড়ে থাকা মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। 

নিহত ফরহাদের মা মমতাজ বেগম জানান, তার ছেলে বিগত চার বছর ধরে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করে আসছিল। গত কয়েক দিন ধরেই অজানা কারণে আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ বোধ করছিল বলে তাঁকে জানিয়েছিল। কিন্তু প্রতিদিনই তাকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে রাত্রি যাপন করতে হত। সর্বশেষ সোমবার রাতে একা রাত্রিযাপন করতে ভয় পায় বিধায় বন্ধু নবী নূরকে নিয়ে হাসপাতালে ঘুমাতে যায় ফরহাদ। এরপর মঙ্গলবার সকালে তাদের দুইজনের মৃত্যুর খবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শুনতে পান তিনি। 

তিনি আরো জানান, তার ছেলে কখনই নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করত না। কারো সঙ্গে তার ছেলের কোনো সত্রুতাও ছিল না। অসুস্থতার কারণে গত কয়েক দিন ধরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষের কাছে ছুটি চাইলেও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি।
 
এ বিষয়ে হাজী আনোয়ার মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, ফরহাদ বহু দিন ধরে একাই রাতের বেলা ওই সেন্টারে ঘুমাতেন। তার সঙ্গে অন্য কারো সেখানে ঘুমানো বা রাত কাটানোর কথা নয়। বিষয়টি তিনি রহস্যজনক বলে মনে করছেন।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, নিহতদের শরীরের পাশে বোমির চিহ্ন ও মুখে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বোতল, গ্লাস ও জগসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে মরদেহ দুটিও ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত তরল পদার্থ জাতীয় কিছু তারা সেবন করে মৃত্যুবরণ করেছে অথবা প্রয়োগের ফলে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। 

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


মন্তব্য