kalerkantho


সাতক্ষীরায় কিশোরীকে পাচারের অভিযোগে পাচারকারীর যাবজ্জীবন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০১৮ ১৮:০২



সাতক্ষীরায় কিশোরীকে পাচারের অভিযোগে পাচারকারীর যাবজ্জীবন

ফাইল ছবি

সাতক্ষীরার এক কিশোরীকে ভারতে পাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহষ্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। 

সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মোঃ হাবিবুর রহমান (৪২)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্যাংদহা গ্রামের কেয়ামুদ্দিন গাজীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৮ জুন সকাল ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্যাংদহা গ্রামের হাবিবুর রহমান তার প্রতিবেশি এক কিশোরীকে (১৬) তার শ্বশুর বাড়ি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে থাকাকালীন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের রহমতুল্লার ছেলে আবু বকর ছিদ্দিক ও বাক আঁচড়া গ্রামের কালু শেখের ছেলে আক্তারুজ্জামানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় হাবিবুর। সেখানে তাকে তিন দিন রাখার পর ১১ জুন বিকেলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে দেয় হাবিবুর। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় ভারতের মুম্বাই শহরের বিজয়নগর পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। দীর্ঘ চার মাস সেখানে আটক রেখে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এক পর্যায়ে ২০০৫ সালের ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সে দেশে ফিরে আসে। এরপরে ২৬ অক্টোবর মেয়েটি হাবিবুর রহমান, ছিদ্দিক ও আক্তারুজ্জামানের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক শফিকুল আলম ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি আসামি হাবিবুর রহমানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আজ বৃহস্পতিবার ওই মামলায় পাঁচজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আসামি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৫(১) ধারায় উপরোক্ত কারাদণ্ডাদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নাদিরা পারভিন।


মন্তব্য