kalerkantho


বাল্যবিয়ে বন্ধ করে পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৬ মে, ২০১৮ ০০:৪৭



বাল্যবিয়ে বন্ধ করে পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক

ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরে গতকাল শুক্রবার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তুহিনা আক্তারের (১৪) বাল্যবিয়ে বন্ধ করে তার পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। 

তুহিনা আক্তার ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও সদর উপজেলার ভাটি কানাইপুর গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ায় মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর সদরের কানাইপুর বাজার এলাকার জাহাঙ্গীর টাওয়ারের কাজী অফিসে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সুরুজ মিয়া জোর করে তুহিনার বিয়ে দিতে নিয়ে যায়। সে সময় বিবাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) মো. হুমায়ন কবীরের কনের বয়স ১৮ বছরের কম মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তুহিনা জানায় তার বাবা তাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে। পরে কাজী হুমায়ুন কবীর ও উপস্থিত লোকজন বিষয়টি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে জানান। 

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া ওই রাতেই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মো. হাফিজুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তারা দুজনে সেখানে গিয়ে তুহিনা আক্তার ও তার বাবা সুরুজ মিয়া ও মা শাহিদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের পান।

এ সময় তুহিনা আক্তার সকলকে জানায়, সে পড়ালেখা করতে চায়। কিন্তু তার অমতে তাকে জোর করে বিয়ে দেয়া হচ্ছিল। পরে তাকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে স্কুল শিক্ষক ও কাজীর জিম্মায় তাকে পরিবারের কাছে রাখা হয়।
বিবাহ রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবীর জানান, ছাত্রীর বিয়ের বয়স না হওয়ায় ঘটনাটি আমি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। জেলা প্রশাসক ওই ছাত্রীর পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানান, বাল্যবিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করি। ওই সময় বাল্যবিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে ছাত্রীর বাবা তার আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথা বলেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি স্কুলছাত্রী তুহিনা আক্তারের পড়ালেখার দায়িত্ব নেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখতে স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং স্কুল শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়েছেন।


মন্তব্য