kalerkantho


ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০১৮ ০০:২৮



ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল স্কুলছাত্রী

ছবি: কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে রিমা আক্তার (১৫) নামে এক মেধাবী স্কুলছাত্রী বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল।

গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের এখলাছ উদ্দিনের বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু এ বাল্যবিয়ের হাত থেকে মেয়েটিকে রক্ষা করেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেধাবী ওই ছাত্রীটির লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়।

উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের এখলাছ উদ্দিনের মেয়ে রিমা আক্তার পাশের মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের চৌধুরী তালে হোসেন মিছিলজান একাডেমি নামক একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী এবং ক্লাসে তার রোল নম্বর-১।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের হাবিব মিয়ার ছেলে আমীন মিয়ার (২৩) সঙ্গে একই গ্রামের এখলাছ উদ্দিনের মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী রিমা আক্তারের বিয়ের আয়োজন চলছিল। পরে খবর পেয়ে ওইদিন সকাল ১১টার দিকে ইউএনও সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু পুলিশ ও ইউনিসেফের সহায়তায় চলা বেসরকারি সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির ‘শিশু বিবাহ প্রতিরোধ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মহসিন মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আকস্মিকভাবে ওই বিয়ে বাড়িতে হাজির হন। 

এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি দেখে বর ও কনের পরিবারের লোকজন সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। পরে ইউএনও দুই পরিবারের লোকজনদেরকে ডেকে বাল্যবিয়ের কুফল বিষয়ে বোঝান এবং প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে না এমন শর্তে মুচলেকা আদায় করেন।

ইউএনও সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, ‘মেয়েটি পাশের মদন উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে এবং ক্লাসে তার রোল নম্বর এক। তাই এমন মেধাবী একটি ছাত্রীকে বাল্যবিয়ে দিচ্ছে এমন একটি খবর পাওয়া মাত্রই আমি পুলিশ নিয়ে ওই বিয়ে বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়ে ওই বাল্যবিয়েটি বন্ধ করে দেই।


মন্তব্য