kalerkantho


পার্বতীপুরে রেলের টিকিট কালোবাজারে

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি    

২১ জুন, ২০১৮ ১৫:০০



পার্বতীপুরে রেলের টিকিট কালোবাজারে

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের বৃহৎ জংশন দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অধিকাংশই বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে।

পার্বতীপুর স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে চালাচলকারী যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের অধিকাংশ টিকিট কালোবাজারিদের হাতে চলে গেছে। এর ফলে যাত্রীরা তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পার্বতীপুর রেলওয়ের টিকেট কালোবাজারে যাওয়ায় ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরে যেতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।

কাউন্টারে স্ট্যান্ডিং টিকিট ছাড়া সিট বুকিং টিকেটের জন্য তারা হাহাকার করছেন। কাউন্টারে আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত টিকিট পাওয়া না গেলেও ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় স্টেশনে থাকা দালাল চক্রের কাছে। এ টিকিট কে বা কারা পাচ্ছে এ বিষয়ে কোনো তথ্যই রেলের কর্মকর্তারা রাখছেন না। স্টেশনের কালোবাজারিরা রেলের টিকেট কাউন্টারের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় ব্যবসা করে যাচ্ছে দেদারসে। টিকিট বিক্রি করতে রেলস্টেশন কাউন্টারের সামনে সাঁটানো বিজ্ঞাপনগুলোতে ট্রেনের নাম, টিকিটের সংখ্যা ও মোবাইল নম্বর লিখে দিয়েছেন তারা। এসব বিজ্ঞাপন কাউন্টারের সামনে শুধু লাগানো হয়নি, অন্যত্রও টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন শোভা পাচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে ফোন দিয়ে তারা তিনগুণ দাম দাবি করছে। সেই সঙ্গে পানের দোকান, ফার্মেসি, হোটেল ও বাসাবাড়িতে ট্রেনের টিকিট  মিলছে এখন।

এ ব্যাপারে রবিউল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, 'কাউন্টারে টিকেট করতে গেলে সিটবিহীন টিকেট মিলছে। পরক্ষণেই কাউন্টারের সামনে দালালদের হাতে বিক্রি করা টিকেট তিন গুণ দামে বিক্রি করতে দেখা যায়।' তিনি নিজে নীলসাগর ট্রেনের পার্বতীপুর-ঢাকা শোভন চেয়ার ৪৪০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। এখন সেই টিকিট এক হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা করে বিক্রি করছে দালালরা। এভাবেই হরদম টিকেট বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে।

পার্বতীপুর রেল স্টেশনের জন্য ঢাকা টু দিনাজপুরগামী আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য শোভন চেয়ার ৯২টি, এসি চেয়ার ১২টি, নন এসি আটটি ও বার্থ সাতটি, দ্রুতযান এক্সপ্রস ট্রেনের জন্য শোভন চেয়ার ৯২টি, এসি চেয়ার ১৫টি, নন এসি ১০টি, নীলসাগর এক্সপ্রস ট্রেনের জন্য শোভন চেয়ার ৯২ টি, এসি চেয়ার ১২টি, নন এসি চারটি ও এসি বার্থ চারটি এবং ঈদ স্পেশাল দুইটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণি ২৪টি, শোভন চেয়ার ১৪৪টি ও সাধারণ  চেয়ার ৪০০টি বরাদ্দ রয়েছে।

পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা, বিদেশি মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত ল্যাম্ব হাসপাতাল ও পার্বতীপুর রেলওয়ে অয়েল হেড ডিপো মিলে সরকারের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্থাপনা (কেপিআই এলাকা) থাকার কারণে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর পার্বতীপুরের জন্য বরাদ্দ থাকা আসন অপ্রতুল হিসেবে বিবেচিত ভিআইপি যাত্রীদের কাছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভিআইপি যাত্রীরা।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর স্টেশন মাস্টার জিয়াদুল আহসান এর কাছে জানতে চাইলে বলেন, কালোবাজারে রেলওয়ের টিকিট বিক্রির বিষয়টি দেখার কাজ তার নয়। এর জন্য আলাদা প্রশাসন রয়েছে। প্রশাসনকে তিনি অবহিত করেছেন। অন্যদিকে ঈদের পরে ফিরতি টিকিট অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। পার্বতীপুর রেলস্টেশন কাউন্টারে আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই। সেই সঙ্গে চাহিদার তুলনায় আসন বরাদ্দ অনেক কম বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমযোনের পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।  



মন্তব্য