kalerkantho


নীলফামারীতে অপবাদ সইতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০২:২০



নীলফামারীতে অপবাদ সইতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা

নীলফামারীর রামনগর ইউনিয়নের বাহালিপাড়া গ্রামে গ্রাম্য সালিশে কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনায় সবুজ চন্দ্র রায় (২০) নামের এক কলেজ ছাত্র বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটজনকে আসামি করে ওই মামলাটি দায়ের করেন তিনি।

মামলার সূত্র মতে, গ্রামের এক যুবকের সাথে (রাজ্জাকুল ইসলাম) প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই গ্রামের এক কিশোরীর। গত ৬ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে গ্রামের একটি পাট ক্ষেতে ওই দুই প্রেমিক প্রেমিকাকে একসাথে দেখতে পেয়ে বিষয়টি মেয়ের দাদু অফিজ উদ্দিনকে (৬০) জানায় সবুজ। এ সময় অফিজ উদ্দিনসহ তার পরিবারের লোকজন সবুজকে আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে ওই কিশোরীকে শ্লীলতাহানির প্রচারণা চালায়। পরে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিসে সবুজের পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ৭ জুলাই ভোর ৪টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে মিথ্যা ওই অপবাদের গ্লানি সইতে না পারায় দুপুর দেড়টার দিকে আত্মহত্যার চেষ্টায় কীটনাশক পান করে সবুজ। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ জুলাই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

মামলার বাদি সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, মিথ্যা ওই অপবাদের গ্লানি সইতে না পেরে সবুজ আত্মহত্যা করছে। কীটনাশক পানের আগে সে তার ডায়েরির পাতায় মিথ্যা অপবাদ, গ্লানির কথা লিখে সালিশকারীদের বিচার দাবি করেছে। সবুজকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আমি তাদের বিচার দাবি করছি।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার বলেন, সবুজের সুইসাইড নোটটি উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ৮ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন সবুজের কাকা নরেশ চন্দ্র রায়। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা হিন্দু-বৈধ্য-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি খোকারাম রায়, সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায় ও জেলা পূজা উদ্যান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রমেন্দ্র নাথ বর্ধনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা হিন্দু-বৈধ্য-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি রায় বলেন, মিথ্যা অপবাদে সবুজকে ফাঁসানো হয়েছে। সালিশকারীরা তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।



মন্তব্য