kalerkantho


ধর্মপাশায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে মামলা

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫১



ধর্মপাশায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে মামলা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় প্রভা আক্তার নামে এক শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করার দায়ে মাসুদ মিয়া (২৬) ও রুহেল মিয়া (২৫) নামে দুই বখাটের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা প্রভা আক্তার বাদি হয়ে সাদীপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মাসুদ মিয়া ও একই গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে রুহেল মিয়াকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বগার পাছুর গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে প্রভা আক্তার গত প্রায় আড়াই বছর যাবত উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত  প্রত্যন্ত হাওর বেষ্টিত সাদীরপুর গ্রামের এক ছাত্র অভিভাবকের বাড়িতে লজিং থেকে তিনি ওই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 

এ অবস্থায় সাদীপুর গ্রামের মাসুদ ও রুহেল নামে দুই বখাটে গত প্রায় ৪-৫ দিন ধরে শিক্ষিকা প্রভা আক্তারকে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ওই শিক্ষিকা তাঁর এ বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামছুন্নাহার ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল আওয়ালসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। 
পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ওই দুই বখাটের পরিবারের কাছে নালিশ করেন। এতে বখাটে মাসুদ ও রুহেল ওই শিক্ষিকার প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে ওই দুই বখাটে বিদ্যালয়ে ঢুকে সহকারি শিক্ষিকা প্রভা আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। 

এমনকি তারা তাঁকে হাতে ধরে টানাহেঁচরা করতে থাকে। পরে শিক্ষিকার ডাক-চিৎকার শুনে অন্যান্য শ্রেণী কক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে ওই দুই বখাটে শিক্ষিকাকে দেখে নিবে বলে হুমকি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে যায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামছুন্নাহার বলেন, বখাটে মাসুদ ও রুহেল ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে যে ধরনের অশালীন আচরণ করেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন, এভাবে বখাটেদের হাতে শিক্ষিকা ইভটিজিংয়ের শিকার হতে থাকলে দুর্গম হাওর এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদেরকে শিক্ষকতা করাটা দুরহ হয়ে উঠবে।

ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য