kalerkantho


ময়মনসিংহের মঞ্চ মাতাল 'যামিনীর শেষ সংলাপ'

সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৪৭



ময়মনসিংহের মঞ্চ মাতাল 'যামিনীর শেষ সংলাপ'

যুগের পর যুগ ধরে ঘাম, রক্ত, শ্রম, মেধার বিনিময়ে মঞ্চকে যারা আলোকোজ্জ্বল করে তুলেছেন তাদেরই একজন যামিনী ভূষণ রায়। ৪৫ বছরের থিয়েটার জীবন।

এই থিয়েটারের জন্য তিনি ছুড়ে ফেলেছেন তার সমস্ত ঐশ্বর্য, বিসর্জন দিয়েছেন প্রেম-পরিবার। অথচ, জীবনের শেষ লগ্নে ৬৮ বছর বয়সী নিঃসঙ্গ যামিনী ভূষণ রায়ের কীসের এত আক্ষেপ যা প্রম্পটার বৃদ্ধ অনাদিকে কাঁদায়? কাঁদিয়ে যায় হলভরা দর্শকদের?

ময়মনসিংহের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার হলভরা দর্শক পিনপতন নীরবতায় উপভোগ করলেন বৃদ্ধ যামিনী ভূষণ রায়ের ভূমিকায় মণিভূষণ ভট্টাচার্যের অসাধারণ, অনন্য অভিনয়। একটিমাত্র পাদপ্রদীপের আলোয় যামিনীরূপী মণিভূষণের কন্ঠে উঠে আসে নিমচাঁদ, সিরাজউদ্দৌলা, রঘুপতি, ম্যাকবেথ থেকে ইডিপাসের চরিত্ররা। শোনা যায় একজন অভিনেতা, মঞ্চশিল্পীর বহু কষ্টের উপাখ্যান যা তুলে ধরে মঞ্চনাটকের বর্তমান বাস্তবতাকে।

মুক্তবাক থিয়েটারের পরিবেশনায় 'যামিনীর শেষ সংলাপ' নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন তরুণ নির্দেশক চিন্ময় দেবনাথ। অনাদির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রিয়ন্ত পাল। এছাড়া তরুণ যামিনী ভূষণ এবং তার প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে মাহমুদুল হাসান এবং ইশরাত জাহান রিমি। ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট ব্যাপী চলা এই নাটক শেষে উচ্ছসিত প্রশংসা ব্যক্ত করেন দর্শকরা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে প্রশংসার ফুলঝুড়ি।

ময়মনসিংহের খ্যাতনামা চিকিৎসক এবং নাট্যকার ডা. প্রদীপ চন্দ্র কর অভিনেতা মণিভূষণ ভট্টাচার্যের অভিনয়ের উচ্ছসিত প্রশংসা করে সোশ্যাল সাইটে লিখেন, 'মনি ইজ মনি, মঞ্চের অধিপতি, নটরাজ ধনী! সমস্যা হচ্ছে কি- ওর অভিনয়টা মাথা থেকে যাচ্ছে না। কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। '

দর্শকদের অভিমত ছিল, অনেকদিন পর ময়মনসিংহের মঞ্চে ভিন্ন এবং অসাধারণ কিছু উপভোগ করেছেন তারা। নাটকটির নির্দেশক চিন্ময় দেবনাথ এক প্রতিক্রিয়ায় ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চের জন্য লাইটের অপ্রতুলতা, শব্দ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক সরঞ্জামের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি এই সমস্যাগুলো সমাধানের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দীর্ঘদিন ধরেই এসব সমস্যা চলছে। শহরের থিয়েটারগুলো এসব মাথায় নিয়েই নাট্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানেই স্পষ্ট হয়ে যায়, রাজধানীর বাইরের থিয়েটারগুলোকে কতটা সংগ্রাম করতে হয়।


মন্তব্য