kalerkantho


কাঁটাতারে প্রজাপতি দিয়ে জলার্কে'র যাত্রা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ২২:০২



কাঁটাতারে প্রজাপতি দিয়ে জলার্কে'র যাত্রা

বসবাসের স্থান হিসেবে পৃথিবীকে সবুজ সুন্দর রাখতে মানুষের চেষ্টার শেষ নেই। কিন্তু এই মানুষই আবার ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে ভাগ করে দিয়েছে নিজ স্বার্থে, সৃষ্টি করেছে জাতি ও শ্রেণিভেদ, রাষ্ট্র এবং কাঁটাতার।

এখানে মানুষে মানুষে যুদ্ধ। ক্ষমতা, আধিপত্য এবং বাণিজ্যের লড়াইয়ে রক্তাক্ত হচ্ছে এই পৃথিবী আর ক্ষুধার আগুনে পুড়ছে মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশুরা যারা আগামী পৃথিবীর স্বপ্ন।

এসব বিষয় তুলে আনার প্রয়াস রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিকেন্দ্রিক নতুন আবৃত্তি সংগঠন জলার্ক'র প্রথম প্রযোজনা 'কাঁটাতারে প্রজাপতি'তে। আজ শনিবার বিকেল ৫টায় শাহবাগ কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে জলার্কে'র আত্মপ্রকাশ ও পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা 'কাঁটাতারে প্রজাপতি'র মঞ্চায়ন হয়।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা আশরাফুল আলম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 'বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন'র সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মইনুল ইসলাম জাবের।

অনুষ্ঠানে জলার্কে'র আবৃত্তি শিল্পীদের কণ্ঠে চিত্রায়িত হয় সীমান্তে ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশের দৃশ্য উপস্থিত শ্রোতা দর্শকের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে সবুজ সুন্দর একটি পৃথিবী অঙ্গীকার করেও যখন তা পূরণ করা যাচ্ছে না, তখন মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়ে মানুষ হয়ে উঠছে অমানুষ।

নতুন প্রজন্ম এই পৃথিবীতে যখন সবচেয়ে অসহায় তখন আর দেরি নয়, মনুষ্যত্বহীনতাকে পরাজিত করে এখনই শিশুদের বাসযোগ্য একটি সবুজ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার করা হয় 'কাঁটাতারে প্রজাপতি'র মাধ্যমে।  

কাঁকন জামানের নির্দেশনায় এ প্রযোজনায় কবিতা পড়েন হাম্মাদুর রহমান সোহাগ, কাঁকন জামান, ফারজানা মনি, সাইদা আফরোজা খানম, তাসনিম ফেরদৌসি, নুসরাত জাহান প্রিতী, জিহাদ আমিন, শাকিব জামানসহ আবৃত্তি শিল্পীরা। এ সময় জলার্কে'র শতাধিক সদস্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জলার্কে'র  সভাপতি এ জেড এম সফিউল হান্নান।


মন্তব্য