kalerkantho


নগরীর নবান্ন উৎসবে লোকজ সংস্কৃতির আবহ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৫০



নগরীর নবান্ন উৎসবে লোকজ সংস্কৃতির আবহ

দেশজ সংস্কৃতির সাথে রাজধানীবাসীকে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং লোকজ উপাদানগুলোকে নাগরিক জীবনে আরো বেশি আপন করে নেয়ার প্রত্যয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী জাতীয় নবান্নোৎসব।
আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ২০তম এ উৎসবের উদ্বোধন করেন।


জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে ভোর ৭টায় গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশিতে লোকজ গানের সুরে শুরু হয় এবারের নবান্নোৎসব।
উদ্বোধনের পরেই ‘নবান্ন কথন’ শিরোনামে শুরু হয় বিশিষ্টজনদের আলোচনা। এতে বিশিষ্টজনেরা বাংলার বিভিন্ন উৎসব যেন নগরায়নের প্রভাবে হারিয়ে না যায় সে বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন।
এ সময় উদ্বোধক ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, নবান্ন উৎসব একটি উদার, সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মানুষের এ উৎসব গণমানুষের উৎসব, খেটে খাওয়া মানুষের উৎসব।
তিনি শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, আশ্বিন মাসকে আমাদের এলাকায় বলা হত দারুণ আশ্বিন, এ মাসে অভাব অনটন লেগেই থাকত। গুটিকয়েক ধনাঢ্য পরিবার ছাড়া আর কারো ঘরে ধান থাকত না। পরে আসত অগ্রহায়ণ। সবার ঘরে উঠতো সোনালী আমন ধান। তখন ধনী-গরীব সবাই উৎসবে মেতে উঠতো। আর সে উৎসব হতো সার্বজনীন।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, হাজার বছরের চিরায়ত এ উৎসবটি নগরায়নের প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। নাগরিক তরুণরা আমাদের এই সার্বজনীন উৎসবের সঙ্গে পরিচিত নয়।
তিনি বলেন, গ্রামীণ পিঠাপুলি তো তারা অনেকেই চিনে না। তরুণদের শেকড়ে ফেরাতে হলে আমাদের এই গ্রামীণ উপাদানগুলো নগরে আরো বেশি করে তুলে ধরতে হবে।
জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসান বলেন, শেকড়ের উৎসবে আমরা লোকজ সংস্কৃতি উপস্থাপনের পাশাপাশি এ অস্থির সময়ে বাঙালিকে আমরা সম্প্রীতির বন্ধনে বাঁধতে চাই।
উৎসব আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম পহেলা অগ্রহায়ণের নবান্ন উৎসবকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়ে এ দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান।
‘নবান্ন কথন’ পর্বে অন্যদের মধ্যে উৎসবের পৃষ্ঠপোষক ল্যাব এইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ এম শামীম আলোচনায় অংশ নেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে লোকগানের সাথে নৃত্যের পাশাপাশি অগ্রহায়ণে বাংলার প্রধান ফসল ধান কাটা নিয়ে পরিবেশিত হয় বেশ কয়েকটি গান। এছাড়া পটগান, ধামাইয়া গানসহ বিভিন্ন ধরনের লোকগানের সাথে শিল্পীরা গেয়ে শোনান দেশের গান এবং লালন ও রবীন্দ্রসংগীত।
এ পর্বের শুরুতেই ছিল সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে..’ গানের সাথে সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে নটরাজ ও নৃত্যজন।
‘চল যাই ধান কাইটা আনিতে’ ও ‘দিন যায় দিন আসে’ গান দুটির সাথে সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যম। ‘চাষী ভাই আয় রে’ গানের সাথে নৃত্যজন এবং লোকজ গানের কম্পোজিশনের সাথে কাঁদামাটি ও স্পন্দন সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে।
সম্মেলক গান পর্বে বহ্নিশিখা পরিবেশন করে ‘কাটি ধান কাটি ধান আয় রে’ গানটি। ‘মাঠে মাঠে সোনালী ধান’ পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে ‘আবার জমবে মেলা বটতলা’ গানটি।
অনুষ্ঠানে ফরিদা পারভীন, শাহীন সামাদ, সুমা রায় ও শামা রহমান সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
আবৃত্তি পর্বে নায়লা তারান্নুম কাকলী আবৃত্তি করেন।
শেষে আচিকের শিল্পীরা গারোদের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’র ঐতিহ্য পরিবেশন করে নৃত্য।
পরে চারুকলা অনুষদ থেকে বিভিন্ন লোকজ অনুষঙ্গ নিয়ে শোভাযাত্রা বের করে নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ। শোভাযাত্রাটি টিএসসি মোড় ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে চারুকলার বকুলতলায় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হয় নবান্নের আর্ট ক্যাম্প। এতে সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আবদুস শাকুর শাহ, আবুল মান্নান, রেজাউন নবী, কামাল পাশা চৌধুরীসহ ২২ জন চিত্রশিল্পী অংশ নেন।
উৎসবে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তির পাশাপাশি ছিল মানিকগঞ্জের চানমিয়ার দলের লাঠি খেলা, নড়াইলের নিখিল চন্দ্রের দলের পটগান, নেত্রকোণার দিলু বয়াতি ও তার দলের মহুয়ার পালা এবং খুলনার ধামাইল গান। বাসস


মন্তব্য