kalerkantho


১০ গুণী পেলেন গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০২:১৪



১০ গুণী পেলেন গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক

ছবি: কালের কণ্ঠ

দ্বিতীয়বারের মতো প্রথিতযশা ১০ জন আবৃত্তির পুরোধাব্যক্তিত্বকে অসামান্য অবদানের জন্য গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় একুশে প্রথম প্রহর উদযাপন ও গোলাম মুস্তাফা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মোলাম মুস্তাফার জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক-২০১৮ পাওয়া ১০ গুণীজন হলেন, খান জিয়াউল হক, তারিক সালাহউদ্দিন মাহমুদ, এসএম মহসীন, রুহুল আমিন প্রামাণিক, নিরঞ্জন অধিকারী, কাজী মদিনা, ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী আরিফ (মরণোত্তর), রণজিত রক্ষিত ও সুবর্ণা মুস্তাফা। এ সময় গুণীজনদের সম্মানস্বরূপ ১০ হাজার টাকার চেক, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃত কর্মীরা পকেটের টাকা খরচা করে কাজ করে যায়। এভাবেই আরো দীর্ঘ সময় কাজ করে যেতে হবে। কারণ এখনো অনেক দূর যাওয়া বাকী। অনেকেই বলে আবৃত্তি শিল্পীরা নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ায়। আমি বলবো, এভাবেই মহিষ তাড়িয়ে যেতে হবে, নয়তো ওই সমস্ত মহিষ সব লন্ডভন্ড করে দেবে। গোলাম মুস্তাফার কথা স্বরণ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা যে ব্যক্তিকে নিয়ে এসেছি তার জন্য শোক না করে আনন্দ করতে পারি। কারণ এই লোকদের মৃত্যু নেই, তার স্মৃতিগুলো মনে করে আনন্দ করতে পারি। তার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় স্বাধীনতার পূর্বের সময়ে। তখন থেকেই তিনি মনের মধ্যে স্বাধীনতা ধারণ করতেন। যা তার আচরণ প্রকাশ পেত। সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল পরিষ্কার। সবার মাঝে দেশ প্রেম থাকলেও সাহস থাকে না। তিনি ছিলেন সাহসী একজন মানুষ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশকে ধারণ করেন শিল্পীরা। এই দেশের সাংস্কৃতিক মানচিত্র নির্মাণ করেন শিল্পীরা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাবেন শিল্পীরাই। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ বলেন, বাঙালির জীবনে একুশ এসেছিল বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠছে স্বাধীন দেশে। আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের এই আয়োজন শুধু গোলাম মুস্তাফার সম্মানে নয়, এর মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে সম্মানিত করেছি। বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিযে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, মানুষের ধারণা ১৫ বছর হয় আমার বাবা নেই। তবে আমি বিশ্বাস করি আমার বাবা প্রগতিশীল সংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে আছেন। গোলাম মুস্তাফারা মরেণ না তারা থেকে যায়। এই সময় সুবর্ণা মুস্তাফা গোলাম মুস্তাফার বিভিন্ন কাজ নিয়ে একটি আর্কাইভ করার প্রস্তাব দেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দলীয় কবিতা পরিবেশন করেন, কণ্ঠশীলন, বৈকুণ্ঠ, স্রোত আবৃত্তি সংসদ, স্বরবৃত্ত, স্বরচিত্র, কথা, স্বরকল্পনসহ ১৫টি আবৃত্তি সংগঠন।


মন্তব্য