kalerkantho


উন ও মুনের সাক্ষাৎ বৈঠকের আগেই

৬৫ বছর পর দক্ষিণের মাটিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



৬৫ বছর পর দক্ষিণের মাটিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন-জায়ে ইনের আজকের ঐতিহাসিক সম্মেলন সামনে রেখে গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার ডিমিলিটারাইজড জোনের কাছে যুদ্ধবিরোধী শোভাযাত্রা বের করে দেশটির উইমেনস পিস গ্রুপ। ছবি : এএফপি

কোরীয় যুদ্ধের পর আজ শুক্রবার প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতা দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে পা ফেলতে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষ তৈরি হয়েছে আন্তঃকোরিয়া সম্মেলনের সৌজন্যে, যেখানে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসবেন উত্তরের নেতা কিম জং উন এবং দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন-জায়ে ইন। তবে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, দুই নেতার মধ্যে সাক্ষাৎ হবে নির্ধারিত বৈঠকের ঘণ্টাখানেক আগেই।

উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে পারে, এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যে দুই নেতা এ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। পর্যবেক্ষরা বলছেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলে আসা উত্তেজনা প্রশমনে এ বৈঠক বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনতে পারে।

সিউল (দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী) অবশ্য বলেছে, উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসবে—এবারের সম্মেলনে এমন চুক্তি করা কঠিন হবে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, পিয়ংইয়ং (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) পরমাণু কর্মসূচিতে অনেক দূর এগিয়েছে। সেখান থেকে ফিরে আসাটা সহজ হবে না।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র ইম জং-সিওক বলেন, ‘পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে দুই নেতা কতটুকু ছাড় দেবেন, সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ কিম অবশ্য গত সপ্তাহে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, যাঁর সঙ্গে জুনের মধ্যে বৈঠকের কথা রয়েছে উনের।

বিবিসির খবরে বলা হয়, এবারের কোরীয় সম্মেলনের খাবারের তালিকাসহ সব কর্মসূচিই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ইম জং-সিওক জানান, দুই কোরিয়ার সীমান্তে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলকে মুন জায়ে-ইন স্বাগত জানাবেন। আর সেখানেই সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে দেখা হবে দুই নেতার।

ইম জং-সিওক জানান, দুই নেতার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। এরপর তাঁরা আলাদা হবেন এবং পৃথকভাবে দুপুরের খাবার খাবেন। বিকেলে দুই নেতা একটি পাইনগাছের চারা লাগাবেন। চারা রোপণের ক্ষেত্রে শান্তির প্রতীক হিসেবে দুই কোরিয়ার মাটি ও পানি ব্যবহার করা হবে। এরপর দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে যোগ দেবেন। বৈঠকের পর দুই নেতা একটি চুক্তি সই করবেন এবং যৌথ বিবৃতি দেবেন। এরপর নৈশভোজের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের সম্মেলন। এই নৈশভোজ হবে সীমান্তের দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে। নৈশভোজের পর একসঙ্গে ‘স্প্রিং অব ওয়ান’ নামের একটি ভিডিও দেখে নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যাবে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদল।

সম্মেলনে উনের সঙ্গে যে প্রতিনিধিদলটি যাবে, সেটি ৯ সদস্যের। এর মধ্যে আছেন উনের বোন কিম ইয়ো-জং, রাষ্ট্রপ্রধান (আলংকারিক পদ) কিম ইয়ং-নাম, সাবেক গোয়েন্দা প্রধান কিম ইয়ং চল, স্পোর্টস প্যানেলের প্রধান চোয়ে উই, পলিট ব্যুরোর সদস্য রি সু ইয়ং, সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ রি মায়োং সু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাক ইয়ং সিক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়োং হো এবং দুই কোরিয়ার সম্পর্ক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রি সন গওন। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধদলটি সাত সদস্যের। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং ঐক্যবিষয়ক (দুই কোরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক) মন্ত্রীও আছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, দুই নেতার বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। তবে দুই দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নানা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হবে বলে সিউলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

 


মন্তব্য