kalerkantho


গুহা থেকে মুক্তি

থাইল্যান্ডজুড়ে জয়োল্লাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



থাইল্যান্ডজুড়ে জয়োল্লাস

চিয়াং রাইয়ের যে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কিশোর ফুটবলারদের, তার সামনের এক স্কুলে গতকাল উল্লাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। ছবি : এএফপি

গুহা থেকে সফলভাবে ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারের ঘটনায় থাইল্যান্ডে চলছে এখন আনন্দের বন্যা। ছেলেদের সাহস আর উদ্ধারকারী দলের সাফল্যের চর্চা চলছে পত্রিকার পাতায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে। হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘হুইয়া’ লিখে এ সাফল্যের নানামুখি পর্যালোচনায় ব্যস্ত থাইল্যান্ডের মানুষ।

গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তিন দিনে ‘ওয়াইল্ড বোর’ কিশোর ফুটবল দলের সদস্যদের বের করে আনা হয়। সব মিলিয়ে কমবেশি ১৮ দিন তাদের গুহায় বন্দি অবস্থায় কেটেছে। এই উদ্ধারকাজের ব্যাপক কাভারেজ দেখা গেছে থাই মিডিয়ায়। প্রতিটি সংবাদ থেকেই উচ্ছ্বাস উপচে পড়ছিল।

গুহার অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বেশ কিছুদিন কাটানোর পরও ১১-১৬ বছর বয়সী এসব কিশোরের শরীর-স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা ভালো আছে বলে জানিয়ছেন চিকিৎসকরা। তাদের স্বাভাবিক খাবারই দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিদর্শক থংচাই লের্তউইলাইরাতানাপং বলেন, ‘তারা একসঙ্গে ছিল, একে অন্যকে সাহায্য করেছে এ কারণে হয়তো শারীরিক, মানসিকভাবে চাঙ্গা ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ছেলেদের উজ্জীবিত রাখতে তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচও ভূমিকা পালন করেছেন।

ফুটবল দলটি এখনো চিয়াং রাই হাসপাতালের নির্জন ওয়ার্ডেই অবস্থান করছে। শেষ দলে উদ্ধার পাওয়া ছেলেগুলোর মধ্যে সামান্য নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা গেছে।

গুহায় বন্দি অবস্থায় প্রবল বর্ষণের আশঙ্কায় প্রতি মুহূর্তেই ঝুঁকির মুখে ছিল দলটি। বুধবার তাদের উদ্ধার সম্পন্ন হওয়ার পর স্কুলের কয়েক শ শিশু হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে উদ্ধারকারীদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জানায়। এ ছাড়া ১৬ বছর বয়সী নাইট নামে গুহা থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া এক কিশোরের সহপাঠী দুয়াং সিত্তিওয়াঙ্গা জানায়, স্কুল শুরু করলে নাইটের জন্য একটি গান গাইবে তারা। নাইটের জন্মদিন উদ্যাপনের জন্যই গত ২৩ জুন গুহায় বেড়াতে যায় ছেলেরা। ওই দিনই ছেলেটির জন্মদিন ছিল। দুয়াং জানায়, নাইটের জন্য কেক ও উপহারেরও ব্যবস্থা করবে তারা। স্কুল শুরু করার পর আবার নাইটের জন্মদিন পালন করা হবে।

থাই নেভি সিল এই উদ্ধার অভিযানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাদের সহযোগিতা করেন দেশি-বিদেশি ডুবুরিরা। গত বুধবার উদ্ধারের পর নেভি সিল তাদের ফেসবুক পেজে সুখবরের সঙ্গে ‘হুইয়া’ শব্দটি যোগ করে। তার পর থেকে ভাইরাসের মতো এর ব্যবহার শুরু হয়। খুদে ফুটবলারদের শুভেচ্ছা আর উদ্ধারকারী দলকে অভিনন্দন জানাতে সবাই হ্যাশট্যাগের সঙ্গে ‘হুইয়া’ শব্দটি জুড়ে দেয়।

বাচ্চাগুলোর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে অবশ্য এই উদ্ধার বড় ধরনের স্বস্তি তৈরি করেছে। কোচ এক্কাপোল চানতাউং-এর নানা খামলুহ গুনটাওং বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। তার চেয়েও বেশি স্বস্তি লাগছে। আমি গত কয়েক দিন ঘুমাতে পারিনি। বেশি আনন্দ হচ্ছে এ কারণে যে ছেলেরা সবাই বের হয়ে এসেছে। ও (এক্কাপোল) ছেলেদের বিষয়ে খুব যত্নশীল। সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য