kalerkantho


মেধাবী জাতি গড়তে প্রাণিজ আমিষের বিকল্প নেই : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৩



মেধাবী জাতি গড়তে প্রাণিজ আমিষের বিকল্প নেই : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মেধাবী জাতি গড়তে হলে প্রাণিজ আমিষের বিকল্প নেই উল্লেখ করে গবেষণা কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার পরামর্শ দিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। আজ বুধবার সকালে বিএলআরআই মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বার্ষিক রিসার্চ রিভিউ ওয়ার্কশপ-২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

 

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও প্রণিসম্পদের উপর নির্ভরশীল। এই মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছে। তাই জাতীয় প্রয়োজনে নব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের ভিশন-২০২১'কে সামনে রেখে গবেষণা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দুই দিনের এই কর্মশালার আলোকে যে সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে সেগুলি বাস্তবায়ন করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করার আশ্বাস দেন তিনি।  

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. তালুকদার নূরুন্নাহারের সভাপতিত্বে দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মীর শওকাত আলী বাদশা ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ভাগ্য রানী বণিক।  

মীর শওকাত আলী বাদশা বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ করে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে বিএলআরআই এর স্বল্প সংখ্যক বিজ্ঞানীগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ড. ভাগ্য রানি বণিক বলেন, খাদ্যে স্বয়ম্পূর্ণ হলেও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা এখনো ঘাটতি রয়েছে।

বিজ্ঞানীর স্বল্পতা নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়। সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্ত:ইনস্টিটিউট গবেষণা কার্যক্রমের সমন্বয় থাকা একান্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিএআরসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সভাপতির ভাষণে ড. তালুকদার নূরুন্নাহার বলেন, স্বল্প জায়গায় অধিক নিরাপদ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অঞ্চল ভিত্তিক সমস্যা নিরুপন করে নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি ও প্রয়োজনীয়। দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় ৫৮টি গবেষণা প্রবন্ধের মধ্যে ৩৭টি  উপস্থাপন করা হবে এবং ২১টি পোস্টারের মাধ্যমে প্রদর্শিত হবে। খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে ৪টি প্রযুক্তি খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর করা হবে। এ কর্মশালায় দেশের পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শে গবেষণা কার্যক্রম আরো ফলপ্রসু হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আজহারুল আমিন। এ কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণকর্মীসহ প্রায় ২৫০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য