kalerkantho


বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ

অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অধ্যাপক মাহমুদ হাসান নাজেহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫৫



অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অধ্যাপক মাহমুদ হাসান নাজেহাল

এবার 'অধ্যক্ষ' নিয়ে কোন্দলের জের ধরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ- ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে আজ বৃহস্পতিবার নাজেহাল হয়েছেন ওই কলেজেরই পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ'র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহামুদ হাসান। তাঁকে একটি কক্ষে জোর করে আটকে রেখে তাঁর নিকট থেকে ব্যাংকের চেক ও আরেকটি কাজে সাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই চিকিৎসক নেতা। এ ঘটনায় তিনি ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদে সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. মাহামুদ হাসান জানান, কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। এর বিধি অনুসারে কলেজ পরিচালনা বোর্ডই অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া এখতিয়ার রাখে। সে অনুসারে কলেজের অধ্যক্ষ  তাইমুর নেওয়াজ গত ১৮ ডিসেম্বর পদত্যাগ করলে ওই পদে কলেজের উপাধ্যক্ষ সামসুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ দেয় কলেজ পরিচালনা বোর্ড। কিন্তু এতে অসন্তুষ্ট কলেজের মালিকানা প্রতিষ্ঠান- ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে কলেজের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক পরিতোষ কুমার ঘোষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়। ফলে একই পদে দুজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়ে চলতে থাকে কলেজটি। এর মধ্যেই গত ২৪ ডিসেম্বর এক দফা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে থেকে চাবি নিয়ে নেন ট্রাস্টি বোর্ডের একজন প্রভাবশালী সদস্য।

অধ্যাপক মাহামুদ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার আমি কলেজে দরিদ্র কোটায় এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি সংক্রান্ত এক সভায় অংশ নিতে আসি। এর এক পর্যায়ে ট্রাস্টি বোর্ডের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পক্ষে এবং একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সমর্থনপুষ্ট ৪০-৫০জন ডাক্তার-কর্মচারী এক জোট হয়ে আকস্মিক আমাকে একটি কক্ষে আটকে ফেলে। তাঁরা আমার সঙ্গে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করে আমার হাত চেপে ধরে একটি চেক ও একটি কাগজে জোর করে সাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে এ বিষয়টি আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করেছি এবং ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেছি। এ ছাড়া বিএমডিসিকেও জানিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মাহামুদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি দেখিয়ে বলেন, পরবর্তী নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সামসুল আলমও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত কয়েক বছরে মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালটিকে নানা গ্রুপিংয়ের কবলে দফায় দফায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের মূল সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল স্টাডিস এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিএমএসআরআই)-এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, কলেজ পরিচালনা বোর্ড যাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বানিয়েছিল তাঁর ব্যাপারে হাইকোর্টের রুল রয়েছে, তাই আমরা বলেছিলাম তাঁকে না দিয়ে সিনিয়র একজন অধ্যাপক হিসাবে পরিতোষ কুমারকে দায়িত্ব দিতে।

তিনি বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি আজ ডা. মাহামুদ হাসানের কাছে ওই কলেজের চিকিৎসক-কর্মচারী অনুরোধ জানানোর ফলে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় পরিতোষকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। এখানে কোনো জোর জবরদস্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হয় না।

তিনি জানান. মাত্র তিন মাসের জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে এত কিছু হবে কেনো বুঝতে পারছি না। আর একজন প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিকে কেনোইবা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করার চেষ্টা হচ্ছে!


মন্তব্য