kalerkantho


পদ্মার চরে যাত্রার নামে অশ্লীলতা, গভীর রাতে ইউএনওর অভিযান

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৯:৫০



পদ্মার চরে যাত্রার নামে অশ্লীলতা, গভীর রাতে ইউএনওর অভিযান

দোহার উপজেলার বিচ্ছিন্ন পদ্মার চর নারিশা জোয়ারে যাত্রা ও আনন্দ মেলার নামে অশ্লীল নাচ প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন। শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অশ্লীলতার প্রমাণ পেয়ে 'যাত্রা' বন্ধ করে দেন তিনি।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে দোহার থানা পুলিশ ও নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে নদী পার হয়ে নারিশা জোয়ারের যাত্রামঞ্চে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ওই সময় যাত্রামঞ্চে নাচ প্রদর্শন করছিলেন এক তরুণী। আর তিন শ ও পাঁচ শ টাকার টিকিট কেটে তা দেখছিলেন দর্শকরা। ইউএনওর উপস্থিতি টের পেয়ে গাঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন যাত্রার আয়োজক মেঘুলা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার। তবে একপর্যায়ে কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে অাসা হয় ঘটনাস্থলে।
 
নারীদের দিয়ে অশ্লীল নাচ প্রদর্শনের ব্যাপারে আবুল কালাম হাওলাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন ইউএনও আয়োজক আবুলকে বলেন, আপনি সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অনুমতি নিয়ে অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। কাজেই আপনি নিজে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ মুহূর্তে আয়োজন বন্ধ করবেন।

তিনি আরো বলেন, তা ছাড়া আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব। ইউএনওর কথা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে আবুল কালাম হাওলাদার মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা ও আনন্দমেলার আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করেন।

একইসঙ্গে অঙ্গীকার করেন তিনি এমন কার্যকলাপের সঙ্গে আর কোনোদিন থাকবেন না। অভিযান চলাকালে আতঙ্কে গাঢাকা দিতে শুরু করেন অনেকেই। এ সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা সাত-আটজন তরুণীও কৌশলে গাঢাকা দেন।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক যাত্রাপালা। সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অঙ্গীকার করে শর্তসাপেক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিস থেকে অনুমতি নিয়েছিল আবুল কালাম হাওলাদার।

তিনি আরো জানান, কালাম একতা সমিতির ব্যানারে এ আয়োজন করে তা থেকে আদায়কৃত অর্থ নদী ভাঙনকবলিত মানুষকে দেওয়ার কথাও আবেদনে লিখেছিলেন। কিন্তু তিনি শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রার নামে পদ্মার চরে তরুণীদের দিয়ে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করে সে শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

শুক্রবার রাতে অভিযান চলাকালে অশ্লীলতার প্রমান পেয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযানের সময় ইউএনওর সঙ্গে ছিলেন দোহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন মোল্লা, নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী, দোহার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অমিতাভ অপু।

এদিকে যাত্রার নামে অশ্লীলতা বন্ধ করার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই সরব ছিল ফেসবুক ব্যবহারকারী ও এলাকার সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদসভা আয়োজনের মাধ্যমে তারা এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রকাশ্যে। অভিযোগ জানিয়েছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।


মন্তব্য