kalerkantho


স্মরণসভায় সাংবাদিক-রাজনীতিকসহ বিশিষ্টজনরা

মানিক সাহা হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ উন্মোচনে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:০২



মানিক সাহা হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ উন্মোচনে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি

ছবি: কালের কণ্ঠ

মানিক সাহা হত্যার পুন:তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করে রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক নেতাসহ বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, মুক্ত গণমাধ্যম চর্চা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকৃত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও ভাড়াটিয়া খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

নির্ভীক সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা মানিক সাহার চতুর্দশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তারা এ দাবি জানান। 'মানিক সাহা হত্যার বিচারপ্রত্যাশী সংক্ষুব্ধ সমাজ' আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ। পিটিবিনিউজ ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক আশীষ কুমার দে'র সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিএফইউজে'র সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া, সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ন্যাপ নেতা ইসমাইল হোসেন, চ্যানেল ২৪-এর সম্পাদক (কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) রাহুল রাহা, মানবাধিকারকর্মী জালাল উদ্দিন, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলক, ডিইউজে'র সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, নৌ সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া, কালের কণ্ঠ'র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নিখিল ভদ্র, উন্নয়নকর্মী মিজানুর রহমান বিজয় প্রমুখ।

সভায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মানিক সাহা ছিলেন একজন নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিক ও খাঁটি দেশপ্রেমিক। সাম্প্রদায়িকতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বুর্জোয়া শাসক শ্রেণির শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহসীকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে গেছেন তিনি। মৃত্যুর হুমকি পেয়েও চলার পথ থেকে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। তাঁর এ বিরোচিত আত্মদান সাহসী সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং ন্যায়বিচার ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের মনে সাহস যোগাবে।

রাজেকুজ্জমান রতন বলেন, মানিক সাহা'র শারীরিক মৃত্যু হলেও কাপুরুষরা তাঁর আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। কর্মগুণে অনন্তকাল আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি। তাঁর বর্বরোচিত হত্যার পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগানদাতাসহ নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।

আব্দুল জলিল ভুঁইয়া বলেন, মানিক সাহা মৌলবাদসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদেরকে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছেন। এ কারণে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাই স্বাধীন মত প্রকাশ এবং মুক্তি সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মানিক সাহা হত্যার ন্যায় বিচার অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেস ক্লাবের অদূরে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নৃশংসভাবে নিহত হন সাংবাদিক মানিক সাহা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক সংবাদ ও নিউএজ পত্রিকার খুলনাস্থ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ইটিভি প্রতিনিধি ও বিবিসি বাংলা'র খন্ডকালীন সংবাদদাতা ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত মানিক সাহা ছাত্রজীবন থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তিনি কর্মজীবনেও নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের লড়াই-সংগ্রামে।


মন্তব্য