kalerkantho


নগরজীবন: স্বর্গেও মনে হয় গরিবের সুখ নাই!

আতিয়ার রহমান রিকশাচালক, আসাদগেট, ঢাকা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৪৯



নগরজীবন: স্বর্গেও মনে হয় গরিবের সুখ নাই!

ঢাকায় কত দিন ধরে আছেন?

১৬ বছর ধইরা ঢাকায় আছি। গেরামের বাড়ি আমার রংপুরের পীরগাছায়। রোজগারের জইন্যে ঢাকায় আইসা পড়ছি। ঢাকায় আইসা প্রথম থাইকাই রিকশা চালাই।

গ্রামের বাড়িতে কে কে থাকে?

তিন ছেলে আছে। আর আপনার চাচি আছে। বড় ছেলে বিয়ে করেছে, তার সংসার আলাদা। মেজো ছেলের মাথা ঠিক নাই। কোনো কাজই একটানা বেশি দিন করে না। আজ এ কাজ করে তো পরশু করে আরেক কাজ। কখন কোন কাজ ধরে তার ঠিক নাই। আর ছোট ছেলে সাভার কলেজে পড়ে, আমার সঙ্গে থাকে।

ছোট ছেলের পড়াশোনা কেমন চলছে?

ভালোই চলছে। ছেলে মন দিয়া পড়াশোনা করে। বিএ পাস করেছে, মাস্টার্সে ভর্তি হইব। কিন্তু কলেজে ভর্তির টাকা এখনো জোগাড় করতে পারি নাই। ভর্তি হতে হাজার তিনেক টাকা লাগব।

ঢাকায় কোথায় থাকেন?

কখনো সাভারে থাকি, কখনো ঢাকা উদ্যান এলাকায় থাকি। একটা রুম ভাড়া নিছি। আমি বাইরে থাকি, ছেলে কলেজ থেকে আইসা রান্না করে।

ঢাকায় রিকশা চালাতে কেমন লাগে?

ভালোই লাগে। গ্রামে আমার কোনো জমি আছিল না, রিকশা চালায়া ৯০ হাজার টাকায় ছয় কাঠা জমি কিনছি। সেই জমিতে টুকিটাকি সবজির চাষ করি। তবে কয়েক দিন হইল ভালোমতো রিকশা চালাইতে পারি না। সিএনজির ধাক্কা খায়া কোমরের হাড়ে সমস্যা হইছে।

দুর্ঘটনা হলো কী করে?

রিকশার ওপর বসা আছিলাম। সিএনজি ঘুরাতে গিয়া রিকশায় মারছে। তখন পইড়া গিয়া কোমরে ব্যথা পাইছি। ঝাড়-ফুঁক দিছি। কবিরাজে মালিশ করে, বেদনা কমে না। পরে এক পরিচিত ডাক্তারকে দেখাইছি। তিনি আমারে পরীক্ষা করাইছেন। ওই সময় ডাক্তার কইছেন, তিন মাস রেস্টে থাকতে। কিন্তু রেস্টে গেলে পেট চলব কী কইরা! বাধ্য হয়াই রিকশা নিয়া পথে নামছি। গরিবের স্বর্গেও মনে হয় সুখ নাই! 

ঢাকায় ১৬ বছরের জীবন, কেমন লাগছে?

ঢাকায় তো সব কিছুই ভালো লাগে। আগের চাইতে রাস্তাঘাটও ভালো। তয় জিনিসপত্রের দাম বেশি। আগে দাম ছিল কম, ইনকাম করলেও কিছু টাকা থাকত, টাকা জমাইতে পারতাম। এখন সব জিনিসের দাম বেশি, বাসাভাড়াও বাড়ছে। খরচ বেশি বইলাই তো ছেলের কলেজের টাকা দিতে পারি না।

ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা কী?

গেরামে চইলা যাব। কিন্তু এখন তো আগের মতো কাজ করতে পারি না, রিকশা চালাইতেও কষ্ট হয়। গেরামে গিয়া কিছু একটা করতে চাইলে তো পুঁজি লাগব। চিন্তা করছি কী করা যায়, একটা কিছু তো করতেই হইব।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : কবীর আলমগীর

ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন


মন্তব্য